সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বাংলায় বৃষ্টির কথা বলছে দিল্লি৷ আর, কলকাতা বলছে, বাংলা থাকবে শুকনো৷ এমনই দুই ধরনের তথ্যের জেরে বিভ্রান্ত এখন সাধারণ মানুষ৷

দিল্লি কীভাবে বলছে বৃষ্টির কথা? কারণ, আবহাওয়া দফতরের ওয়েবসাইট৷ সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷ কিন্তু, ফোনে কলকাতার আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হল, আগামী ২৪ ঘণ্টায় শুকনো থাকবে বাংলা৷

আবহাওয়ার পূর্বাভাস হিসাবে যে সব তথ্য আলিপুরের আবহাওয়া দফতর থেকে ফোনের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যায়৷ সে সব তথ্য দফতরের ওয়েবসাইটেও দেওয়া থাকে৷ কিন্তু, বুধবার সন্ধ্যার সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে ফোনে জানতে চাওয়া হলে আলিপুরের আবহাওয়া দফতর থেকে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনকী আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়৷

গরম বৃদ্ধির কারণ কী? এ বার আর কোনও তথ্য এ দিন দিতে পারলেন না আবহাওয়া দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মী। তবে, তিনি বললেন, ‘‘ডিউটি অফিসার নেই। আমি বলতে পারব না৷’’ স্বাভাবিক কারণেই, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রার বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ ওয়েবসাইটে খোঁজ করতেই দেখা গেল ভিন্ন তথ্য৷ দেখা গেল, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ধরনের তথ্য কি সঠিক? বিভ্রান্তি দূর করার জন্য গোটা বিষয়টি নিয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এখন আউট অফ স্টেশনে আছি৷’’ স্বাভাবিক কারণে, জানা সম্ভব হল না ওয়েবসাইট, না, ফোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য, কোনটা সঠিক৷ তবে, কিছু সময় পরে অধিকর্তা নিজেই ফোন করে এমনই জানিয়েছেন, বুধবারের আবহাওয়ার বিষয়ে জানাতে গিয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকার কথা বলা হয়েছে৷

অথচ, আলিপুর আবহাওয়া অফিসে আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মী যে ভুল তথ্য দেননি, তা প্রমাণের জন্য চেষ্টাও করেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘সাংবাদিকেরই ভুল হচ্ছে। তিনি ভুল জানতে চেয়েছেন, তাই তিনি ভুল তথ্য পেয়েছেন। ঠিক প্রশ্ন করলেই সঠিক উত্তর পেতেন৷’’ আবহাওয়া অফিসের ওই কর্মী যে ভুল তথ্য দিয়েছেন, সেই বিষয়টি অধিকর্তা মানতেই চাননি৷

আবহাওয়া দফতরের বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিস থেকে যেমন ফোনের মাধ্যমে তথ্য জেনে নেওয়া যায়৷ তেমনই, ওয়েসবাইট থেকেও আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়৷ স্থানীয় অফিসগুলি থেকে আবহাওয়া সংক্রান্ত আপডেট আসার পরে, সেই তথ্য পাঠানো হয় দিল্লিতে। দিল্লির কেন্দ্রীয় অফিস শিলমোহর দেওয়ার পরই আবহাওয়া সংক্রান্ত সেই সব তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়৷