কলকাতাঃ  গোটা দেশে তীব্র আর্থিক মন্দা চলছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জিডিপির ক্ষেত্রেও এক নম্বরে রয়েছে বাংলা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের একটা তথ্য তুলে ধরে এমনটাই জানাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। একই সঙ্গে তুলে ধরলেন দেশের অর্থনীতির অবস্থাও।

তিনি বলেন, দেশে নতুন কোনও প্রকল্প আসছে না। নেই কোনও বিনিয়োগ। দেশের শিল্পপতিরাও ভিত। তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই আশঙ্কাতে দেশের শিল্পপতিরা রয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

অমিত মিত্র এই মুহূর্তে জিডিপির হার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেখানে দেশের জিডিপি গ্রোথ মাত্র ৫.৮ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের জিডিপি বৃদ্ধির হার হল ১২.৫৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। অমিত মিত্রের মতে, গত পাঁচ বছরে জিডিপি গ্রোথ একেবারে তলানিতে নেমে গিয়েছে। এর মানে সাধারণ মানুষের বিশাল আর্থিক চাপ বাড়ছে। ৪৫ বছরে সবচেয়ে বেশি বেকার রয়েছে বর্তমানে। কর্মসংস্থান নেই। নতুন প্রজন্ম এবং যুবক যুবতীরা কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না।

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান ও প্রকল্প রূপায়ণ মন্ত্রকের হিসেবে এ রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১২.৫৮ শতাংশ। এরপরে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। তার জিডিপি বৃদ্ধির হার হল ১১.০২ শতাংশ। বিহারের জিডিপি বৃদ্ধি ১০.৫৩ শতাংশ। তেলেঙ্গানার জিডিপি বৃদ্ধি ১০.৫০ শতাংশ। মাত্র চারটি রাজ্যে ১০’র বেশি হারে জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে। বাকি সব রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১০-এর নীচে। একদিকে যখন তীব্র মন্দা, তখনও অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুষ্ঠু নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গে জিডিপি বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পলিসি প্যারালিসিস’-এর জন্য অর্থনীতির এই অবস্থা বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

পাশাপাশি গোটা দেশের আর্থিক অবস্থার হালও তুলে ধরেছেন অমিত মিত্র। তিনি বলেন, শিল্পের উৎপাদন চলতি বছরের জুন মাসে ২ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০১৮ সালের এই একই সময়ে ৭ শতাংশ হারে বাড়ছিল। সেটি এখন ২ শতাংশে নেমে এসেছে। এপ্রিল, মে থেকে জুন মাসের হিসেব ছিল ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি। গত বছরে একই সময়ে যে বৃদ্ধির হার ছিল ৫.১ শতাংশ। ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন(আইআইপি) জুন মাসে দেখাচ্ছে ১.২ শতাংশ। যা গত বছর জুন মাসে ছিল ৬.৯ শতাংশ। এই তথ্যই প্রমাণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক অবস্থা কী। দেশজুড়ে মন্দার মেঘের ঘনঘটা চলছে। তীব্র আর্থিক মন্দা ভারতীয় অর্থনীতিতে। ‘পলিসি প্যারালিসিস’-এ ভুগছে কেন্দ্রীয় সরকার। ( সূত্র-বাংলা এক সংবাদমাধ্যম)