ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা রাজ্য সরকারি কর্মীদের থেকে ২৫ শতাংশ বেশি ডিএ পান। রাজ্য সরকারি দীর্ঘদিনের দাবি সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি। এই দুটি মূল ইস্যুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে সদর্থক বার্তা চাইছে রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

কাল, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারি কর্মীদের বঙ্গে মিলিত হবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সঙ্গে। লোকসভা নির্বাচনেই কর্মীদের যে অসন্তোষ দেখা পোস্টাল ব্যালটে দেখা গিয়েছে, সে ব্যাপারে ভালোই জানেন মমতা। সেক্ষেত্রে শুক্রবার ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’র সুযোগ থাকছে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা আলোচনা করছেন, যা চোখে দেখা যায় তা সত্য নয়। যে দেখা যায় না , তা-ই সত্য। কর্মীচারীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ব্যাপারে আপাতত এই ‘সত্যের’ দিকেই তাকিয়ে আছেন।

যা পরিস্থিতি, রাজ্য সরকারি কর্মীরা সপ্তম ভুলে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আশায় বুক বাঁধলেও মাসের শেষে বেতনের বর্ধিত অংক চলতি বছরে দেখতে পাবেন বলে মনে করছে না সরকারি কর্মচারী সংগঠন গুলি অধিকাংশ। ২০১৯ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ যদি জমাও পড়ে, তবুও কর্মীদের বর্ধিত বেতন হাতে পেতে-পেতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস হয়ে যাবে। সুতরাং, এবছর কিছু পাওয়ার আশা কম।

ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করলে তা কিভাবে করবে, সেই বিষয়ে সরকারি কর্মীদের প্রশ্ন রয়েছে। নবান্ন সূত্র এবং কর্মচারী সংগঠনগুলি যা জানাচ্ছে, তা হলো, ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারির বেসিক পে এবং গ্রেড পে এবং তার সঙ্গে ১২৫ শতাংশ ডি এ– এর সর্বমোটের উপর ১৪.৩ শতাংশ যত হয় , সেই পরিমান টাকাই ফিক্সেসন হিসেবে ধার্য হবে। তবে ওই বর্ধিত টাকা আগামী জানুয়ারি মাসের আগে পাওয়া যাবে বলে মনে করছে না অনেক সংগঠনই।

ষষ্ঠ বেতন কমিশনে সরকারি কর্মীরা এরিয়ার পাবে তা কেউ প্রায় স্বপ্নেও ভাবেন না। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে নোসোনাল ফিক্সেসন হবে। ২০১৭, ১৮ বা ১৯ এ বর্ধিত বেতন দেখানো হবে। কিন্তু কর্মীরা হাতে পাবে না। বর্ধিত বেতন পাওয়া যেতে পারে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। তবে, ষষ্ঠ বেতন কমিশন সপ্তম বেতন কমিশনের সমান হবে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মীরা একটি বেতন কমিশন পায়নি।

বাম আমলে, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় পয়লা জানুয়ারি ২০০৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০০৮ – এই ২৭ মাস নোসোনাল ফিক্সেসন হয়েছিল। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার পয়লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০০৯ – এই এক বছর পঞ্চম বেতন কমিশনের বর্ধিত বেতন দুটো কিস্তিতে কর্মীদের দিতে চেয়েছিল। ২০১০ সালে প্রথম কিস্তি পেয়েছিল সরকারি কর্মীরা। তবে, রাজ্যে পরিবর্তন আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি, দ্বিতীয় কিস্তিকে দুটি ভাগে ভাগ করে কর্মীদের দেন। সেক্ষেত্রে মোট তিনটি কিস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ