কলকাতা: বাংলায় ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৪৪ জনের শরীরে মিলল মারণ করোনার ভাইরাস। যার ফলে এক ধাক্কায় রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪,৫৩৬ জন। মোট মৃত ২৯৫ জন৷ এই মুহূর্তে সক্রিয় করোনা আক্রান্ত ২,৫৭৩ জন৷

বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৮৭ জনই কলকাতার। তার পরেই আছে হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৯ জন। উত্তর দিনাজপুরে আক্রান্ত ৪৬ জন৷ বীরভূমে ২৭ জন৷ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের৷ এর মধ্যে কলকাতার ৩ জন৷ হাওড়ার ২ জন এবং উত্তর ২৪ পরগণার ১ জন৷ ফলে মোট মৃতের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়াল ২৯৫ জন৷

এদের মধ্যে ৭২ কো মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে৷ পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০ জন সুস্থও হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন৷ ফলে মোট সুস্থও হয়ে উঠেছেন ১,৬৬৮ জন। সবমিলিয়ে ডিসচার্জ রেট ৩৭.৬০ শতাংশ। এই মুহূর্তে করোনা অ্যাকটিভ আছে ২৫৭৩ জনের দেহে।

এ দিন ৯,২৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ আর সেই পরীক্ষায় নতুন করে ৩৪৪ জন করোনা আক্রান্ত হল৷ যা রাজ্যে এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ৷ এর আগে সর্বোচ্চ সংখ্যাটা ছিল ২০৮ জন৷ এদিনের বুলেটিনে জেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যের৷ অনেকেই মনে করছেন গত কয়েক দিনে যে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ফিরছেন, তাঁদের অনেকের মধ্যে উপসর্গ থাকার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যাটা হঠাৎ বেড়ে গেল এতটা৷ গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৮৭ জনই কলকাতার।

তার পরেই আছে হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৯ জন। উত্তর দিনাজপুরে আক্রান্ত ৪৬ জন৷ বীরভূমে ২৭ জন৷ পূর্ব বর্ধমানে ১৬ জন৷ এবং নদিয়ায় আক্রান্ত ১৫ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১০ জন ও মালদার ৯ জন৷ বৃহস্পতিবারের বুলেটিন আরও বলা হয়েছে, রাজ্যে মোট টেস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার, ৭৬৯। প্রতি ১০ লক্ষ মানুষে টেস্ট হয়েছে ১৯৫৩ জনের।

মোট ৩৮টি ল্যাবরেটরিতে টেস্ট হচ্ছে করোনার। ৬৯টি হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা। ৯২০টি আইসিইউ বেড রয়েছে, ভেন্টিলেটর রয়েছে ৩৯২টি। রাজ্যের মোট ৫৮২টি সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আছেন ১৭ হাজার ৪২১ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫৭ জন।

এদিনের বুলেটিনেও আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কলকাতায়৷ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭ জন৷ এরফলে কলকাতায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৯০০ জন৷ মৃত্যু হয়েছে মোট ১৯৪ জনের৷ এর মধ্যে কো মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের৷ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯১৯ জন৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প