কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী। এই রাজনৈতিক দলগুলির সহাবস্থান দূর অস্ত, একে-অপরের উপর আক্রমণ শানাতেই ব্যস্ত। কিন্তু মৈনাকের হাত ধরে এই চারটি রাজনৈতিক দলই যেন একসূত্রে বাঁধা পড়ে গেল। তাও আবার এ রাজ্যে।

শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত আসানসোলের ছোট্ট মৈনাককে বাঁচাতে একজোট হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী সিপিএম, বিজেপি। কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসও সাহায্যের হাত নিয়ে এগিয়ে এসেছে এই জোটমঞ্চে। তাই কোনও রঙ না দেখে একসঙ্গে মৈনাককে বাঁচাতে চান বলে দাবি জানিয়েছেন আসানসোলের জেলা তৃণমূল নেতা ভি শিবাদাস্সান। তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন জেলা সিপিএম নেতা কিংশুক মুখোপাধ্যায়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন উদয় হচ্ছে, যে মৈনাক বিপরীতধর্মী চারটি রাজনৈতিক দলকে একসূত্রে বাঁধল, সেই মৈনাক আসলে কে? এই প্রশ্নের জবাবে বলি, মৈনাক বিশেষ কেউ নয়। কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির সন্তানও নয়। আসানসোলের কুলটি গ্রামের সাধারণ বাসিন্দা নীতীশ সাধুর সন্তান হল মৈনাক। বর্তমানে মৈনাকের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। কিন্তু এর মধ্যেই সে মারণ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা এর থেকে বাঁচার পথও দেখিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৈনাকের অস্থি-মজ্জা স্থানান্তকরণ (বোন-ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট) করলেই সে সুস্থ-দীর্ঘ জীবন পাবে। কিন্তু এই অপারেশনের জন্য খরচ পড়বে ৮ কোটি টাকা। এই টাকার কথা শুনেই মাথায় হাত পড়েছে নীতীশ সাধুর। কুলটি গ্রামেই একটি ছোট স্টেশনারি দোকান চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান নীতীশবাবু। তাঁর পক্ষে ৮ লক্ষ টাকা দূর অস্ত, ১ লক্ষ টাকা জোগাড় করাও সম্ভব নয়। তাই রাজ্যবাসীর কাছে ছেলের  প্রাণভিক্ষা করছেন মৈনাকের বাবা। ৮ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে রাজনৈতিক নেতাদেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক নেতারা অবশ্য নীতীশবাবুকে ফিরিয়ে দেননি। মৈনাকের জীবন বাঁচাতে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস একজোট হয়ে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছে এবং যে যা সাহায্য করবে, সেই টাকা ওই অ্যাকাউন্টেই পড়বে। যৌথভাবে তৈরি ওই অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত বিবরণ ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে নীতীশ বাবুকে দেওয়া হয়েছে। দলীয় কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও মৈনাকের অপারেশনের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা। মৈনাককে সুস্থ করে তুলতে তাঁরা যে ভীষণ আগ্রহী, তা আসানসোলের সিপিএম নেতা কিংশুক মুখোপাধ্যায়ের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, “মৈনাককে বাঁচাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। আশা করি আমরা সফল হব।’’ এটা কোনও রাজনীতি নয় বলেও দাবি জানান কিংশুকবাবু। আবার তৃণমূল নেতা ভি শিবাদাস্সানের কথায়, “যদি আমরা কোনও দলের রঙ না দেখে একজোট হয়ে শিশুটির প্রাণ বাঁচাতে পারি, তাহলে এটি একটি মাইলস্টোন হবে এবং অন্যদের অনুসরণের একটি উদাহরণ হবে।’’ সিপিএম, তৃণমূলের মত কংগ্রেস, বিজেপিও মৈনাককে বাঁচাতে বিশেষ তৎপর।