কলকাতা: রাজ্যে সহজে করোনা মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থা নিল সরকার৷ কোথাও কারও জ্বর হলেই এবার সরকারের কাছে চলে আসবে খবর। তার জন্য মমতা সরকার নিয়ে এল মোবাইল অ্যাপ৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সন্ধানে’৷ আশা কর্মীদের প্রত্যেকের মোবাইলে থাকবে এই অ্যাপটি৷ বৃহস্পতিবার নবান্নে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য সভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ইতিমধ্যেই রাজ্যে সাতটি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে৷ আর কোথাও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে কিনা, সেই খবর দ্রুত পেতে চায় সরকার৷ তাই নিয়ে আসা হল মোবাইল আ্যাপ৷ রাজ্যে কারও কোথাও জ্বর হলেই এবার সরকারের কাছে অ্যাপেই সেই খবর চলে আসবে৷ ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধে হবে,কাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হবে৷ এবং কাকে পাঠাতে হবে আইসোলেশনে৷ ফলে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা শুরু করতে সুবিধা হবে৷

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন সরকারি এই মোবাইল অ্যাপটির নাম ‘সন্ধানে’। আশা কর্মীদের জন্য নতুন এই অ্যাপ আনা হয়েছে। আশা কর্মীদের প্রত্যেকের মোবাইলে এই অ্যাপ থাকবে। কারও কোথাও জ্বর হলে, কর্মীদের মোবাইল থেকেই সরকার তা জানতে পারবে। কোথাও কারও জ্বর হলে অ্যাপের মাধ্যমেই সেই তথ্য সরকারের কাছে চলে আসবে। এর আগে করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার একটি অ্যাপ এনেছে৷ আপনার‌ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কতটা রয়েছে?‌ তা বলে দেবে এই অ্যাপ।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে কেন্দ্রীয় সরকারের এই অ্যাপ। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতেই ‘‌আরোগ্য সেতু’‌ অ্যাপটি এনেছে কেন্দ্র। এই অ্যাপের মাধ্যমে মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন তাঁর করোনা আক্রান্ত হওয়ার কতটা আশঙ্কা রয়েছে। তার জন্য মাপকাঠি হিসাবে ধরা হচ্ছে ব্যবহারকারীর সঙ্গে তাঁর আশেপাশের লোকেদের যোগাযোগের পরিমাণ।

ব্লুটুথে কাটিং এজ পদ্ধতি, অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে। স্মার্ট ফোনে এটি ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারী সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপ সহজে নিজের বৃত্তের মধ্যে থাকা অন্য স্মার্টফোনগুলি, যেগুলিতে আরোগ্য সেতু ইনস্টল করা আছে, সেগুলি চিহ্নিত করতে পারবে। তারপর অ্যাপ হিসাব করে দেখবে আপনার আশেপাশে থাকা লোকেদের থেকে আপনার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কতটা রয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যে ১১টি পরিবার থেকে মোট ৭০ জন করোনা আক্রান্ত। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে ৫৬২টি সেন্টারে এই মুহূর্তে ৪৭১৭ জন সরকারি কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আরও বাড়ানো হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সংখ্যা। রাজ্যে ৬১টি কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৮৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।