স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : জয়েন্টের সেরা দশে মাত্র এক বাংলার৷ মেধা তালিকায় টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বাংলা মাধ্যমের এই সেরা পড়ুয়ার নাম অর্ক৷ তিনি সূর্যের মতোই উজ্জ্বল হয়ে রয়েছেন৷ নামের অর্থ যে সূর্য৷ তবে মেধাদের তালিকায় আর কোনও বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়ার নাম উঠল না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷ আরও উল্লেখযোগ্য, কোনও মহিলা পরীক্ষার্থীর নামও নেই সেরা দশ মেধা তালিকায়।

পূর্ব ঘোষণা মতোই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় পশ্চিমবঙ্গের জয়েন্ট পরীক্ষার ফলাফল। বেলা ১ টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে এবছরের সেরার তালিকায় থাকা ১০ কৃতীর নাম ঘোষণা করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, এবছর সেরা দশের তালিকায় থাকা পড়ুয়াদের মধ্যে শুধুমাত্র একজন ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ডের তরফে অর্থাৎ বাংলা মাধ্যম থেকে। বাকি সব পড়ুয়ারাই CBSE কিংবা ISC বোর্ডের থেকে অর্থাৎ ইংরাজি মাধ্যম থেকে।

এবছর সেরা দশের তালিকায় প্রথম হয়েছেন সোহম মিস্ত্রি। সোহম রয়েছেন দুর্গাপুর থেকে। দ্বিতীয় তমোজিত ব্যানার্জি রয়েছেন কলকাতা থেকে, তৃতীয় হয়েছেন দুর্গাপুর থেকে কৌস্তভ সেন, চতুর্থ কলকাতার অঙ্গীকার ঘোষাল, পঞ্চম কলকাতার অর্ক দাস, ষষ্ঠ কলকাতার স্নেহিন সেন, সপ্তম চিত্তরঞ্জনের বিনীত রাজ, অষ্টম উত্তর ২৪ পরগণার ঋষভ আগরওয়াল, নবম কলকাতার অভিনব দত্ত, দশম দুর্গাপুরের শুভজ্যোতি ঘোষ।

এই মেধা তালিকায় এই দশজন ছাত্রের মধ্যে কেবল পঞ্চম স্থানাধিকারী অর্ক দাস রয়েছেন বাংলা মাধ্যম থেকে। অর্ক সোনারপুরের সারদা বিদ্যাপীঠের ছাত্র। রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় মেধা তালিকায় বাংলা মাধ্যম থেকে কেবল একজন কৃতির নাম উঠে আসায় বঙ্গের শিক্ষা মহলে ছড়িয়েছে বিতর্ক! আগেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও৷ বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে পঠন পাঠনের পদ্ধতির আধুনিকীকরণের দাবি আরও জোরাল হচ্ছে৷

পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনেও প্রকাশিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে গুগুলে গিয়ে টাইপ করতে হবে ‘rank card of WBJEE-2019’। এদিন দুপুর ২ টো থেকে বোর্ডের নিজস্ব ওয়েব সাইট www.wbjeeb.nic.in এও সরাসরি ফলাফল পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে বোর্ডের তরফে।

এবছর ২৪ দিনের মাথায় প্রকাশিত হল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলাফল। আগামী ২ জুলাই পরীক্ষার ফল ঘোষণার কথা থাকলেও পরে জানা যায় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হবে ২০ জুন। ২৬ মে সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গে এ রাজ্যেও অনুষ্ঠিত হয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা। সকাল ১১ টা থেকে শুরু হয় পরীক্ষা। সকাল ১১ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১ টায় প্রথম ধাপে পরীক্ষা হয়। তারপর দ্বিতীয় ধাপে দুপুর ২ টো থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১,১৩,৯১২ জন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার হার ৫৯ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২৯৯টি।