সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : টিস্যু কালচার এবং হাইড্রোপ্রনিক মাধ্যমে আলু ফলানোর ভাবনা করছে রাজ্য। ৫৪তম হিমঘর বৈঠকে এসে এমনটাই জানালেন কৃষি দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ প্রদীপ মজুমদার। বিগত কয়েক মরসুমে আলু ফলনের পরিমাণ প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। সেটাই এবার চাহিদা অনুযায়ী টিস্যু কালচারের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা চলছে।

দেশে ধান এবং আলু উৎপাদনে প্রথম তিনে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে আলু উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দারুণ উন্নতি করেছে। এবার নয়া পদ্ধতিতে হবে আলু উৎপাদন। যার ফলে আলু উৎপাদনে স্বয়ং স্বনির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার শহরের পাঁচতাঁরা হোটেলে এমন দাবিই করেন ডঃ প্রদীপ মজুমদার।

পড়ুন: কোচবিহারে জল প্রকল্প দ্রুত চালুর দাবিতে বিক্ষোভ বামেদের

তিনি বলেন, “টিস্যু কালচারের মাধ্যমে আমরা রাজ্যে আলু ফলাব। মেদিনীপুরে এর কাজ হচ্ছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের জন্য সুখবর আসছে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা হাইড্রোপ্রনিক চাষের উপর গুরুত্ব দেব। কারণ এটা খুবই স্বাস্থকর একটি প্রক্রিয়া। জমি ছাড়াই চাষ হতে পারে। তাই এর মাধ্যমে আলু ফলানোর ভাবনা রয়েছে আমাদের।”

প্রসঙ্গত , একটি টিস্যুক কে জীবানু মুক্ত পুষ্টিবর্ধক কোনো মিডিয়ামে বর্ধিতকরন প্রক্রিয়াকে  টিস্যু কালচার বলে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় সোমাটিক এমব্রায়ো উদ্ভিদ টিস্যু কালচারের প্রবর্তক হেবারল্যান্ড।

পড়ুন: বারাকপুরে শ্রমিক মেলা উদ্বোধনে শ্রম দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী

টিস্যু কালচারের ধাপ –

এক্সপ্লান্ট নির্বাচন,  কালচার মিডিয়াম, জীবাণুমক্তকরণ, মিডিয়াম এক্সপ্লান্ট স্থাপন, ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি, চারা উৎপাদন, চারা টবে স্থানান্তর, মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর

হাইড্রোপনিক চাষ
হাইড্রোপনিক চাষ হল জলের উপর ফসল উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি। হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাটির পরিবর্তে জলে গাছের প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করে ফসল উৎপাদন করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মরুভূমিতে মাটি ছাড়া সবজি চাষ চলছে এই পদ্ধতিতেই।

পড়ুন: ‘দুপুর ২টোর পর আর থাকবে না মমতা ব্যানার্জির সরকার’

লেটুস, গিমা কলমি, বাঁধাকপি ,টমেটো, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, ফুলকপি, শসা , স্ট্রবের চাষ করা যায় এই পদ্ধতিতে। হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে দ্রবণ প্রস্তুতি, দ্রবণের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব, Electric Conductivity (EC), বিভিন্ন খাদ্যোপাদানের অভাবজনিত লক্ষণসমূহ সনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এই পদ্ধতির চাষে কখনও নেটহাউজ বা গ্লাসহাউজের প্রয়োজন হয। তাই প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হয়।

সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই এই পদ্ধতিতে মাটির তলার ফসল আলুও ফলানোর চেষ্টা চলছে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV