ফাইল ছবি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: যা দেখা যায় তা সত্য নয়। যে দেখা যায় না , তা-ই সত্য। রাজ্য সরকারি কর্মীচারীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ব্যাপারে আপাতত এই সত্যের দিকেই তাকিয়ে আছে।

যা পরিস্থিতি, রাজ্য সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আশায় বুক বাঁধলেও মাসের শেষে বেতনের বর্ধিত অংক চলতি বছরে দেখতে পাবেন বলে মনে করছে না সরকারি কর্মচারী সংগঠন গুলি অধিকাংশ। ২০১৯ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা পড়লেও, কর্মীদের বর্ধিত বেতন হাতে পেতে-পেতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস হয়ে যাবে।

ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করলে তা কিভাবে করবে , সেই বিষয়ে সরকারি কর্মীদের প্রশ্ন থাকে। নবান্ন সূত্র এবং কর্মচারী সংগঠনগুলি যা জানাচ্ছে , তা হলো, ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারির বেসিক পে এবং গ্রেড পে এবং তার সঙ্গে ১২৫ শতাংশ ডি এ – এর সর্বমোটের উপর ১৪.৩ শতাংশ যত হয় , সেই পরিমান টাকাই ফিক্সেসন হিসেবে ধার্য হবে। তবে ওই বর্ধিত টাকা আগামী জানুয়ারি মাসের আগে পাওয়া যাবে বলে মনে করছে না অনেক সংগঠনই।

বিজেপি প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল বিষয়টি নিয়ে বলেন, “এতো ‘নোসোনাল ফিক্সেসন। যা।মনে হয় হাতে তাই আসবে না। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে সরকারি কর্মীরা এরিয়ার পাবে তা আমরা স্বপ্নেও ভাবি না। রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকার আমাদের আন্দোলনের পর নাকি বলেছেন, জুলাইতেই সুপারিশ জমা দেবেন। কিন্তু, ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে তো নোসোনাল ফিক্সেসন হবে। ২০১৭, ১৮ বা ১৯ এ বর্ধিত বেতন দেখানো হবে। কিন্তু কর্মীরা হাতে পাবে না। বর্ধিত বেতন পাওয়া যেতে পারে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। কিন্তু এরিয়ারের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না।”

দেবাশিসবাবুর মতে, ষষ্ঠ বেতন কমিশন সপ্তম বেতন কমিশনের সমান হবে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মীরা একটি বেতন কমিশন পায়নি।

রাজ্য কো-অর্ডিনাশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় শংকর সিনহার মতে, “বাম আমলেই ৫টি বেতন কমিশন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রথম বেতন কমিশন পেতে এতো বছর অপেক্ষা করবে হলো। এই বেতন কমিশন নিয়ে আগাম কিছু আশা না করাই ভালো। না আঁচলে বিশ্বাস নেই। আমরা তো অভিরূপ সরকারকে বলেছি, ওই আসনে কেন যে বসে আছেন। চলে যেতেই তো পারেন।”

দেবাশিসবাবুর মতে, বাম আমলে, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় পয়লা জানুয়ারি ২০০৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০০৮ – এই ২৭ মাস নোসোনাল ফিক্সেসন হয়েছিল। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার পয়লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০০৯ – এই এক বছর পঞ্চম বেতন কমিশনের বর্ধিত বেতন দুটো কিস্তিতে কর্মীদের দিতে চেয়েছিল। ২০১০ সালে প্রথম কিস্তি পেয়েছিল সরকারি কর্মীরা। তবে, রাজ্যে পরিবর্তন আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি, দ্বিতীয় কিস্তিকে দুটি ভাগে ভাগ করে কর্মীদের দেন। সেক্ষেত্রে মোট তিনটি কিস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।