স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কেন্দ্রের পথে হেঁটে আর্থিকভাবে অনগ্রসরদের জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণের বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকার৷ এবার কেন্দ্রের পথ অনুসরণ করেই সংরক্ষণের শর্ত নির্ধারণ করার কথা ঘোষণা করা হল৷

চলতি মাসের ২ তারিখ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সাধারণ পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সংরক্ষণের ঘোষণা করা হয়৷ তপশিল জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর জাতির জন্য যে সংরক্ষণ ইতিমধ্যে জারি রয়েছে, তা ছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসরদের জন্য এই নয়া দশ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই সংরক্ষণ রাজ্যের শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাংলার ইতিহাসে এমন সংরক্ষণের কোনও নজির ছিল না৷

আরও পড়ুন – 7th Pay Commission: চলতি মাসেই ডিএ বাড়তে পারে সরকারী কর্মচারীদের

আর্থিকভাবে কারা পিছিয়ে তার শর্ত কি হবে? সোমবার তারই তালিকতা প্রকাশ করা হয়৷ কেন্দ্রের মতোই এক্ষেত্রে আর্থিক আয়ের উর্দ্ধসীমা ৮ লক্ষ টাকা রাখেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ নির্ধারিত শর্তগুলি হল…

ক) এই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন ৮ লক্ষ টাকা বা তার কম বার্ষিক আয় সম্পন্ন পরিবারের সদস্যরা৷

খ) আবেদনকারী চাকুরিপ্রার্থী বা পড়ুয়ার পরিবারের মালিকানাধীন জমির পরিমান ৫ একরের বেশি হতে পারবে না।

গ) শহর বা শহরতলিতে ১,০০০ স্কোয়ারফিট বা তার থেকে বড় ফ্ল্যাট থাকলে এই সংরক্ষণ মিলবে না৷

আরও পড়ুন – অকেজো চন্দ্রযান-১ প্রায় এক দশক ধরে ঘুরেছিল চাঁদের চারপাশে

ঘ) ইতিমধ্যে যাঁরা তপশিলি জাতি-উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর জাতির(OBC) সংরক্ষণের আওতায় পড়েন তাঁরা এই সংরক্ষণের আওতায পড়বেন না। এই সবকটা শর্ত পূরণ করলেই মিলবে সংরক্ষণ।
লোকসভা নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক অনগ্রসরদের জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণের কথা প্রথম ঘোষণা করেছিল মোদী সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্ত কি মোদী সরকারের পদক্ষেপকেই অনুসরণ করে নেওয়া হল না? জবাবে শিক্ষামনত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল দেখা গেলেও তফাৎও রয়েছে অনেক৷

নয়া এই বিলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলগুলো। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “ভোটে হারবেন বুঝে গিয়েই এসব করছে রাজ্য সরকার।’’ কেন তা হলে প্রথমে কেন্দ্রের বিলটির বিরোধীতা করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী শিবির৷