শেখর দুবে, কলকাতা: প্রতিবছর চাষিদের কাছ থেকে নায্য মূল্যে ধান কেনে রাজ্য সরকার৷ এবারেও ১৭৫০ টাকা দরে ধান কেনার কথা ঘোষণা করেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ পয়লা নভেম্বর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার অঞ্চল অফিসে এবং আরও নানা জায়গায় ক্যাম্প করে ধান কেনা শুরু করছে রাজ্য সরকার৷ এই ধান কেনার ব্যবস্থার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বিজেপি এবং সিপিএম৷

 

বিজেপির কৃষক মোর্চার রাজ্য সভাপতি রামকৃষ্ণ পালের অভিযোগ৷ চাষিরা সরাসরি সরকারকে ধান বিক্রি করতে পারছে না৷ পাচ্ছে না সরকার নির্ধারিত মূল্যও৷ একই কথা বললেন সিপিএম বিধায়ক তথা বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী৷

রামকৃষ্ণবাবুর আরও অভিযোগ ‘‘দালালরা কম দামে চাষিদের কাছে ধান কিনে বেশি টাকায়(সরকার নির্ধারিত মূল্যে) সরকারি ক্যাম্পে বিক্রি করছে সেই ধান৷ এবিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব৷ বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কাটমানি ঢুকছে তাদের পকেটেও৷’’ মহারাষ্ট্র, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গে যখন একের পর এক কৃষকদের বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে ঠিক সেই সময় এই বিজেপির পক্ষ থেকে তোলা এই অভিযোগ রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের৷

কৃষক মোর্চার সভাপতি আরও বলেন, ‘‘এসব দেখে চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে হয় না৷ কিন্তু প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামলে তৃণমূলের লোকজনেরা মারপিট করছে৷ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমাদের কোন রকম সভা, সমাবেশ, মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না৷’’

অন্যদিকে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিজেপি আজ এসব বলছে৷ আমরা অনেকদিন থেকেই ফড়ে রাজের কথা বলে আসছি৷ রাজ্য সরকারের দেওয়া ধানের দাম কম করে ১৯৫০ টাকা হওয়া উচিত৷ সেটা তো দিচ্ছেই না উপর থেকে তৃণমূলের নেতারা কাটমানি খাচ্ছে৷ এতে গরীব চাষিদের আদপে কোন লাভ নেই ফড়ে/দালালদের সুবিধা করে দিতেই এই সব পদ্ধতি চালু করেছে রাজ্য সরকার৷’’

সুজনবাবু আরও বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলি বেশিরভাগই গ্রাম থেকে অনেক দূরে৷ ফলে দু-কুইন্টাল ধান নিয়ে গাড়ি ভাড়া করে শহরে ধান বিক্রি করে একজন চাষির কোনও লাভ হয় না৷ এই সুযোগটাকেও কাজে লাগাচ্ছে ফড়েরা৷ সরকার নির্ধারিত মূল্যের অনেক কম দামে চাষিদের থেকে ধান কিনে নিচ্ছে তারা৷ রাজ্য সরকারের উচিৎ প্রতিটা অঞ্চলে কম করে দুটো ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা৷’’

যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘সিপিএম-বিজেপির মুখে এসব কথা মানায় না৷ ঠাণ্ডা ঘরে বসে এসব বড় বড় লেকচার দিচ্ছে৷ গ্রামে ঘুরে দেখে আসুক না ধান কেনা হচ্ছে কিনা৷ আর পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতার কিছুই জানেনা ধানের মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস(MSP) আমরা নির্ধারণ করি না৷ করে কেন্দ্র৷ এই রেটও ওদের ঠিক করা৷

কেন্দ্র খাদ্যমন্ত্রী রামবিলাশ পাশোয়ান বাংলাকে মডেল করতে বলেছে৷ আলিমুদ্দিন থেকে ক্যাম্পের কথা বলছে৷ আমরা রাজ্যে ওদের যে কজন এমএলএ রয়েছে তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিলাম কোথায় কোথায় ক্যাম্প করা হবে ধান কেনার জন্য৷ প্রথমে ১০টা জায়গার তালিকা দিতে বলা হয়েছিল৷ সে তালিকা এখনও আসেনি৷ ওরা যাতে বেশি মুখ না খোলে না হলে মানুষ ওদের মিথ্যাচার ধরে ফেলবে৷’’