স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন৷ এই দাবিকে সামনে রেখে রবিবার বর্ধমানের টাউন হলে অনুষ্ঠিত হল সংগঠনের ২৬ তম রাজ্য সম্মেলন৷

ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, কি কেন্দ্র সরকার, কি রাজ্য সরকার কেউই তাঁদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না। অথচ রাজস্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা যে কোনও সংস্থাদের থেকেও অনেক উপরের তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু রাজ্য সরকার বিভিন্ন সেক্টরের জন্য নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দিলেও তাদের জন্য কোনও সরকারই কিছু করছেন না৷ রাজ্যে শিল্প স্থাপনের জন্য সরকার উদ্যোগী হয়েছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়েছেন। এরই পাশাপাশি সমাজ জীবনে ক্রমশই থাবা বসাচ্ছে বহুজাতিক সংস্থাগুলি। তাঁরা সাধারণ মানুষকে সুকৌশলে ঠকাচ্ছেন। আর জেনে বুঝেও এই বিষয়েও কোনও সরকারি উদ্যোগই নেই।

বহুজাতিক সংস্থাগুলির শপিং মলগুলিতে খদ্দের টানতে একটি কিনলে একটি ফ্রি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে। অথচ সাধারণ দোকানদাররা সেই সুযোগ দিতে পারছেন না। কারণ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি কেবলমাত্র শপিং মলের জন্যই আলাদা করছেন। ফলে একই নাম, একই ব্র্যান্ড দুজায়গায় দুরকম হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁরা ঠকছেনও। প্রতিদিনই নিজেদের জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির হাতে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতারিত হচ্ছেন৷

সংগঠনের সহ সম্পাদক অভিজিত চট্টোপাধ্যায়, জেলা সভাপতি প্রিয়ত ভট্টাচার্য, সংগঠনের উপদেষ্টা শান্তিনাথ মুখোপাধ্যায় প্রমুখরা অভিযোগ করেছেন, গোটা ভারতবর্ষ জুড়েই সমস্ত রাজ্য ও জেলায় জেলায় এমনকি একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামেও তাঁরা নিত্য প্রয়োজনীয় মানুষের জিনিসপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরাই বর্তমানে সবথেকে সংকটজনক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সত্যিই যদি সমস্ত ক্রেতাদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয় থাকত৷ তাহলে তাঁদের মাধ্যমেও সেই সুবিধা পৌঁছে দিত কোম্পানিগুলি।

কিন্তু এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কেবলমাত্র বড় বড় শপিং মলেই। তাঁদের মাধ্যমেই বিভিন্ন শিল্পের প্রসার ঘটে। অথচ কোনোরকম সরকারি সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। গোটা রাজ্যে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বিভিন্ন নষ্ট দ্রব্যের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিভিন্নভাবে ১০ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে তাঁদের। ফলে কোম্পানিগুলি লাভবান হলেও চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন : চাইনিজ মাঞ্জায় দুর্ঘটনা রুখতে সচেতনতামূলক প্রচারে পুলিশ

পাশাপাশি ব্যাংকের অসহযোগিতায় খুচরো পয়সার পাহাড় জমে উঠেছে তাঁদের ঘরে। অথচ তাঁরা কিছু করতে পারছেন না। পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ৮৫০জন পরিবেশক রয়েছেন। গোটা রাজ্যে এর সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। প্রতিটি পরিবেশকের সঙ্গে যুক্ত সাত জন করে কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার। ফলে এই সংকটের জের এসে পড়েছে গোটা রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের উপর। একসঙ্গে রয়েছে আচমকাই কোম্পানি হস্তান্তর। ফলে সেখানেও এই পরিবেশকরা চরম সমস্যায় পড়ছেন।

এদিন পরিবেশক সংগঠনের কর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান নিয়মানুযায়ী সার্ভিস ট্যাক্স দিতে বলা হচ্ছে প্রতি মাসে। মাসে তিনবার করে এই রিটার্ন জমা দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু নানাবিধ জটিলতার কারণে তাঁরা এই রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না। পাশাপাশি খরচও বাড়ছে। এই বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ এবং এই পদ্ধতির সরলীকরণ করা উচিত। বহু বেকার বিভিন্ন কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর হিসাবে কাজ করতে নামছেন। কিন্তু এই জন্য ব্যাংকগুলি কোনোরকম সহায়তা দিচ্ছে না। এমনকি সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি পরিবেশকের কাছে হাজার হাজার টাকার খুচরো জমা থাকলেও তা নিচ্ছে না ব্যাংকগুলি।