কলকাতা: কোনও রোগীর মৃত্যুর পরে করোনা পজিটিভ পাওয়ার গেলেও, বলা যাবে না করোনায় মৃত্যু৷ তারজন্য ক্ষতিয়ে দেখা হবে মৃতের ২৪টি টেস্ট৷ ৮- ১০টি উপসর্গ,মৃতের বেড হেড টিকিট৷ সূত্রের খবর, ম্যালেরিয়া,সোয়াইন ফ্লু,ডেঙ্গি,লিভারসহ বিভিন্ন প্রকার টেস্টের রিপোর্ট ক্ষতিয়ে দেখবে রাজ্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি৷ শুধু সব শারীরিক পরীক্ষা ক্ষতিয়ে দেখাই নয়, মৃতের বেড হেড টিকিট৷ তারপরই ঘোষণা করা হবে মৃত রোগীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে কিনা৷

কোনও রোগীর মৃত্যু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে হয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। রবিবার নির্দেশিকা দিয়ে একথা জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজ্যে বেশ কিছু রোগী করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে বা পরে রিপোর্ট এসেছে, করোনা পজিটিভ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য অসুখেও ভুগছিলেন সংশ্লিষ্ট রোগী।

তাই সেসব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যায়নি মৃত্যুর কারণ। এই ধরনের দ্বন্দ্ব বা বিভ্রান্তি এড়াতেই এই কমিটি গঠন। রবিবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে Covid-19 পজিটিভ রোগীর মৃত্যু হলে সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এবার থেকে স্বাস্থ্য দফতরে পাঠাতে হবে। তাদের গঠিত কমিটি এখন থেকে খতিয়ে দেখবে যে মৃত ব্যক্তির করোনার সংক্রমণের ফলে মৃত্যু হয়েছে কি না? পাঁচ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ কমিটিতে রয়েছেন, রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী।

অবসর গ্রহণের পর তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ওই কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিষ ভট্টাচার্য। তাঁকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সায়েন্সের প্রধান চিকিৎসক প্লাবন মুখোপাধ্যায়।

রয়েছেন পিজি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের প্রধান ডা. আশুতোষ ঘোষ এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক জ্যোতির্ময় পাল। উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সময়েও একটি কমিটি গঠন করেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রেও সেই একইপথে হাঁটল রাজ্য সরকার।