ছবি - সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মেঘে মেঘে ঢাকা পড়েছিল সূর্য। সপ্তাহ দুয়েক সূর্যাস্তের পর দেখা মেলেনি চাঁদের। আর তারা? বর্ষার ঘন মেঘ তারাদের অস্তিস্ব ‘সঙ্কটে’ ফেলে দিয়েছিল। দিন দুয়েক এখন দিনে সূর্য, রাতে চাঁদের দেখা মিলবে। মিলবে মেঘবিহীন আকাশ। বৃষ্টি মিলবে আরও দুয়েক পর। এমনটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

‘চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় এমন উজল ধারা’। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর গানে বলতে চেয়েছিলেন বাংলার আকাশের উজ্বল আকাশের কথা। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের আকাশের দিকে তাকালে সেই চিত্র মেলেনি। অনেকেরই মনে হয়েছে, কোথায় হারিয়ে গেল চাঁদ সূর্যের আলো। সারাদিন শুধু মেঘে ঢাকা আকাশ। স্বাভাবিকভাবেই আকাশের তারা ঢাকা ছিল মেঘে। বুধবার থেকে সূর্য চন্দ্রের মেঘ মুক্তি হয়েছে। গ্রহণ কেটেছে। তবে সব সময়েই আকাশ ঝকঝকে পরিষ্কার থাকবে না। আপাতত বেশিরভাগ সময় মেঘমুক্ত আকাশের দেখা মিলবে দিন দুয়েক।

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ দুই জেলাতেই বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকবে শুক্র ও শনিবার। হালকা মেঘের স্তর পেরিয়ে অধিকাংশ সময়েই আকাশে দেখা মিলতে পারে চাঁদ তারাদের। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, ওডিশা উপকূলের উপর যে নিম্নচাপ ছিল তা ক্রমে পশ্চিমে সরে গিয়েছে বুধবারেই। হারিয়ে ফেলেছে শক্তি। এখন কোনও শক্তিশালী সিস্টেম নেই রাজ্যের আশপাশে। নতুন কোন সিস্টেম তৈরি হতে পারে রবিবার নাগাদ।

আলিপুর আনহাওয়া দফতরের এক কর্তা বলেন, “সোমবার থেকে বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ তৈরি হবে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করবে রবিবার থেকেই।” এখন বৃষ্টি প্রায় হচ্ছে না বললেই চলে। রবিবার থেকে সেই বৃষ্টির পরিমাণ আরবার বাড়বে সমগ্র রাজ্যে। আবার মেঘে ঢাকা পড়বে চাঁদ, তারা, সূর্য। তবে আপাতত তাদের দিন দুয়েকের মুক্তি।

হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরে ২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের দমদমে ১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বর্ধমান পেয়েছে ২.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি। কৃষ্ণনগরে বৃষ্টি হয়নি। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতেও বৃষ্টি হয়নি। শুধুমাত্র কোচবিহারে ১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বৃদ্ধি হয়ে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। বৃষ্টি কম হলে বা না হলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। থাকবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ