স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জলপাইগুড়ির হোমে শিশুপাচার চক্রের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘যোগ’ প্রকাশ্যে আসতেই, সিবিআই তদন্তের দাবি জানাল রাজ্য বিজেপি৷ শনিবার দলের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও ফুটেজে এমনই দাবি করেছেন বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে শিশুপাচার চক্রে ধৃত মানস ভৌমিকের যে ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেটাকেই হাতিয়ার করেছেন সায়ন্তন বসু৷

জলপাইগুড়ির ওই হোমে শিশুপাচার চক্রের মূল চক্রী চন্দনা চক্রবর্তীর ভাই মানস ভৌমিক৷ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সরকারি এক অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় কাজ করেছে মানস ভৌমিক৷ এই ছবি শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তার যোগের বিষয়টি মানস ভৌমিক সংবাদমাধ্যমেও স্বীকার করেছে৷ সে এমনও জানিয়েছে, শাসক দলের সদস্য, তাও তাকে গ্রেফতার করা হল৷ এমন ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক বলেও উঠে এসেছে তার কথায়৷ এখান থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ‘শাসকদলের সদস্য হলেই কি সাত খুন মাফ?’

- Advertisement -

আর, এই সম্ভাবনাকে উস্কে দিয়ে রাজ্য বিজেপির দাবি, যেহেতু শিশুপাচারের সঙ্গে শাসকদলের ‘যোগাযোগ’ সামনে আসছে, তাই সিআইডি-র পক্ষে এই ঘটনার সবিস্তার তদন্ত করা সম্ভবপর হবে না৷ তাই ঘটনার মূলে পৌঁছনোর জন্য চাই সিবিআই তদন্ত৷ ইউটিউবে প্রকাশিত ওই ভিডিও-তে বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর, ‘ধৃতের সঙ্গে তৃণমূলের অনেক বড় বড় নেতা ও আধিকারিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে৷ আমাদের সন্দেহ সিআইডির মাধ্যমে এই তদন্ত চালানো আর সম্ভবপর নয়৷ কারণ রাজনৈতিক গুরু বা পলিটিক্যাল বসেদের বিরুদ্ধে সিআইডি আর তদন্ত করতে পারবে না৷’

শিশুপাচারের এই ঘটনায় বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্য জুহি চৌধুরীর নাম জড়িয়ে গিয়েছে৷তার জেরে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে দল৷ ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘যোগ’ প্রকাশ্যে আসতেই শিশুপাচারের ঘটনায় তেড়েফুঁড়ে আন্দোলনে নামতে চাইছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা৷ প্রথমে ‘ব্যাক ফুটে’ চলে যাওয়ার পরে, এ বার ‘কাউন্টার অ্যাটাকে’র পথেই হাঁটতে শুরু করেছে রাজ্যের গেরুয়া শিবির৷
ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন: ভিডিও সৌজন্য: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি