১৯৫২ সালে জনগণের রায় নির্বাচিত সরকার হলেও শাসক কংগ্রেস রাজনৈতিক ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি দিতে শুরু করে। জনসাধারণের মধ্যে কংগ্রেসের প্রতি আস্থাহীনতা ধরা পড়ছিল। তাই শাসক দল হিসেবে কংগ্রেস ১৯৫২ সালের পর থেকে নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়নের দিকে গুরুত্ব দেয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তুলতে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল, দুগ্ধ প্রকল্প নতুন রাস্তা সেতু নির্মাণ উন্নয়নমূলক কাজে হাত দেন।

এদিকে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় কংগ্রেস নেতারা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করে বিদেশি শাসনমুক্ত একটা শিশু রাষ্ট্রের পক্ষে এদেশে অভাবনীয় উন্নতি ঘটছে। তখন মূল সমস্যা হল ক্রমবর্ধমান বেকারি খাদ্য এবং উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সমস্যা। কিন্তু বামপন্থী দলগুলি প্রচার চালায় কংগ্রেসের যুক্তি খণ্ডনের জন্য। বামেদের প্রচারে কিছুটা চাপে পড়ে যায় কংগ্রেস।

এই সময় আবার ডক্টর রায়ের বাংলা বিহার সংযুক্ত করার প্রস্তাবের রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। পাশাপাশি আবার ট্রামের এক পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কলকাতার মানুষ আন্দোলন করে। এইসব আন্দোলনের ফলে চাপে পড়ে যায় কংগ্রেস। তবে ১৯৫৬ সালে পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয় । কিন্তু তারই জেরে যেভাবে আন্দোলন হরতাল হতে থাকে তার প্রভাবে বাংলা বিহার সংযুক্তির প্রস্তাব তুলে নিতে বাধ্য হয়। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বাইরে থাকায় খাদ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেন রাজ্যের দায়িত্ব থাকাকালীন ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনকে দমন করতে কলকাতায় সেনাবাহিনী তলব করা হয়। কিন্তু তাতেও কিছু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ট্রামের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিতে হয়।

শেষমেষ এই নির্বাচনে সেই কংগ্রেসই জিতেছিল। তবে বামেদের আন্দোলনে প্রভাব একেবারে পড়েনি তা ঠিক বলা যায় না। কারণ ১৯৫৭ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়কে ভোটে জিততে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল। প্রথম নির্বাচনে বউবাজার কেন্দ্র থেকে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফরওয়ার্ড ব্লকের সত্যপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪১১১ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিধানসভা নির্বাচনে ডক্টর রায় ওই একই কেন্দ্র থেকে সিপিআই প্রার্থী শ্রমিক নেতা মহম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৪০ ভোটে জয়ী হন। দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনের পর জ্যোতি বসু বিধানসভার প্রথম বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতি পান।

এই নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলির দু’টি জোট ছিল- সংযুক্ত বাম নির্বাচন কমিটি (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি, সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক, মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক ও বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দলের জোট) এবং সংযুক্ত বামফ্রন্ট (সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া, ভারতের বলশেভিক পার্টি, রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্রেটিক ভ্যানগার্ডের জোট)। এছাড়া তৃতীয় জোটটির নাম ছিল ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পিপল’স ফ্রন্ট। ভারতীয় জন সংঘ, অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ও ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি একযোগে এই জোটটি গঠন করেছিল।

রাজ্য পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর বিহারের উত্তরে পূর্ণিয়া জেলার মহানন্দা নদীর পূর্বদিকের কিয়দংশ এবং দক্ষিণে মানভূম জেলার পুরুলিয়া মহকুমা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই কারণে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আসন সংখ্যা ১৯৫৭ সালের নির্বাচনে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫২টি যেখানে আগের নির্বাচনে আসন ছিল ২৩৮টি। এই নির্বাচনে কংগ্রেস জিতে ছিল১৫২টি আসন এবং সিপিআই জিতে ছিল ৪৬টি আসন। ২১টি আসন জিতে দল হিসেবে তৃতীয় স্থানে ছিল পিএসপি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।