পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাম জমানার অবসান ঘটল। দীর্ঘদিন পরে রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল শ্লোগান ছিল ‘পরিবর্তন’। এই পরিবর্তনের অর্থ ছিল রাজ্যের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের পরিবর্তন।

এর আগের বিধানসভা নির্বাচনে খুবই ভাল ফল করেছিল বামফ্রন্ট। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২৩৪টি আসন পেয়েছিল। তখন ওই নির্বাচনে জিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যের যুবকদের কর্মসংস্থানে কথা ভেবে শিল্পায়নের দিকে ঝোঁকেন। সিঙ্গুরে টাটাদের গাড়ি কারখানা এবং নন্দীগ্রামে কেমিক্য়াল হাব সহ বেশ কিছু শিল্প গড়ার উদ্য়োগ নেওয়া হয়। কিন্তু এই সব প্রকল্পের জন্য জমি নিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয় । কৃষি বনাম শিল্পের এক সংঘাত দেখা দেয়। সরকার জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে রীতিমতো স্থানীয় মানুষের বাধার মুখে পড়ে। সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাধে। কৃষি জমি রক্ষার এই আন্দোলনে সামিল হন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।

নন্দীগ্রামে আন্দোলনকারীদের উপর সরকার গুলি চালালে পুলিশের গুলিতে আন্দোলনকারী গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। যাতে চাপে পড়ে যায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার। অন্যদিকে সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা নানা ভাবে বাধার মুখে পড়তে থাকে। বিরোধী আন্দোলনের জেরে টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর থেকে গাড়ি প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে চলে যান গুজরাতের সানন্দে। রাজ্যের এমন পরিস্থিতিতে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার । যারফলে ২০০৯ সালের লোকসভার নির্বাচনেই যেন রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ওই নির্বাচনে রীতিমতো ভাল ফল করে বিরোধীরা। লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র ১৫টি পায় বামফ্রন্ট ।যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ১৯টি আসন । তাছাড়া কংগ্রেস ৬টি এবং এসইউসিআই এবং বিজেপি একটি করে আসন পায়।

এর দুবছর বাদে ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এসইউসিআই এবং আরও কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে জোট বাধেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। এই জোট পায় ২২৮টি আসন।অন্যদিকে বামফ্রন্টের ঝুলিতে মাত্র ৬২টি আসন। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পরাজিত হন। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হেরে যান মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এই রাজনৈতিক পালাবদবলের পর মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.