১৯৮৪ সালে লোকসভার আগে ইন্দিরা গান্ধীর নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে কংগ্রেসের অনুকূলে সহানুভূতির হাওয়ায় বিপুল ভাবে বয়ে ছিল যারজন্য বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৯ নির্বাচনে কংগ্রেসের অবস্থা ততটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না। প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে বোফর্স কেলেঙ্কারি। ভোট হল কিন্তু কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না। বিজেপি এবং বাম দলগুলির সমর্থন নিয়ে জাতীয় মোর্চার নেতা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং প্রধানমন্ত্রী হলেন। কিন্তু তিনি এক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারলেন না। রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সমর্থনে চন্দ্রশেখর প্রধানমন্ত্রী হলেন বটে। কিন্তু চন্দ্রশেখর সরকারও বেশিদিন টিকল না। ফলে ফের লোকসভা ভোটের ঘন্টা বাজল।

১৯৮৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল।পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন করলে পরবর্তী ভোট ১৯৯২ সালে হওয়ার কথা। এদিকে লোকসভার নির্বাচন হতে চলেছে ১৯৯১ সালে। তাহলে আর এক বছর বাদে বিধানসভার ভোট করার বদলে একইসঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট করার কথা ভাবল রাজ্যে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট। সেই কথা ভেবে এবং হাওয়া অনুকূল বুঝে চার বছরের মাথায় বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হলো। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই মতো বিধানসভা ভেঙে দিয়ে ১৯৯১ সালেই এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হল।

ওই নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস ঝাড়খন্ড পার্টি এবং জি এন এল এফের সঙ্গে আসন সমঝোতা করল। এই নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়কে রাজনীতিতে ফিরিয়ে নিয়ে এসে প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব দেন। কংগ্রেস চেয়েছিল সিদ্ধার্থ শংকরের ভাবমূর্তিকে ইউএসপি করে এগোতে। তবে তাঁকে ফিরিয়ে এনেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলে সেই সময় আদৌ সুবিধে করতে পারেনি কংগ্রেস। তিনি ভালো প্রশাসক বলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর নকশাল দমন এবং জরুরি অবস্থার সময়কার ভূমিকার জন্য তখনও মানুষের কাছে নেতিবাচক প্রভাব রয়ে গিয়েছে। আর সেটাই বামেরা গিয়ে তাদের প্রচারে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছিল।তাছাড়া এ রাজ্যের মার্কসবাদীদের তুলনায় কংগ্রেসের সংগঠন ছিল দুর্বল। হঠাৎ করে সিদ্ধার্থ শংকর রায়কে নিয়ে আসায় দলের অন্দরেও ক্ষোভ ছিল।

অন্যদিকে জ্যোতি বসু প্রচারে এ রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলছেন। তাছাড়া বামেরা নিজেদের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে না গিয়ে জাতীয় সমস্যাগুলি নিয়ে প্রচার চালাতে থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মন্ডল কমিশন ইত্যাদি প্রসঙ্গ তোলার পাশাপাশি তাদের সমর্থনের কারণ হিসেবে প্রচারে স্থায়িত্বের কথা তোলেন। তাছাড়া নতুন মুখের দিকে জোর দিতে গিয়ে মন্ত্রী আব্দুল বারী সহ ৩৫ জন বিধায়ককে এই নির্বাচনে আর টিকিট দেন না।

এই বিধানসভা নির্বাচনে শুধু সিপিএম একাই পেয়েছিল ১৮৭টি আসন। তাছাড়া ফরওয়ার্ড ব্লক আরএসপি এবং সিপিআই পেয়েছিল যথাক্রমে ২৯,১৮ এবং ৬টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ৪৪টি আসন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.