১৯৮২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আশাতীত সাফল্য পেয়েছিল সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। এদিকে ১৯৮৪ সালে আততায়ীর হাতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকাহত। তার ফলে এর কয়েক দিনের মধ্যেই লোকসভা নির্বাচনে এক সহানুভূতির হাওয়া বইতে লাগলো কংগ্রেসের অনুকূলে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কংগ্রেস ওই লোকসভা নির্বাচনে জিতল এবং রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলেন। শুধু তাই নয় ওই লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গেও সহানুভূতির হাওয়ার সুবিধা কিছুটা নিতে পেরেছিল কংগ্রেস, তুলনায় বেশ ভালো ফল করল। এ রাজ্যে ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস ১৬টি জিতল। তারপর এই বিধানসভা নির্বাচন হয়ে উঠল যেন বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বনাম রাজীব গান্ধীর লড়াই। ওই সময় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রচারে এসে রাজীব বলেছিলেন, জ্যোতি বাসুজীর অনেক বয়স হয়েছে এবার ওনার রিটায়ার করা উচিত। একথা শুনে অবশ্য জ্যোতি বসু পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, কংগ্রেসের আসন সংখ্যা এবারে আরও কমিয়ে দেব। রাজীবকেই আমি রিটায়ার করিয়ে ছাড়বো।

তবে ১৯৮৭ সালের আগে হওয়া ১৯৮৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ১৯৮৫ সালে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন এবং ১৯৮৬ সালে বেশ কিছু পুরসভা নির্বাচনে ভালোই পারফরম্যান্স ছিল বামেদের। সেই পারফরম্যান্সের পিছনে জ্যোতিবাবুদের ইলেকশন মেশিনারি কাজ করেছিল বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলত।

ইতিমধ্যে প্রমোদ দাশগুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন ফলে পার্টিতে জ্যোতি বসুর ক্ষমতা প্রায় একচ্ছত্র হয়ে উঠছে।তবে এই নির্বাচনে প্রার্থী করার ব্যাপারে বামফ্রন্ট সরকার বেশ চমক দিল। ৬২ জন বিধায়কে এই নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হল না। নতুন মুখ আনার চেষ্টা হল। ৩৫ জন ছাত্র নেতাকে প্রার্থী করা হল। সেবার জ্যোতি বসুই বামফ্রন্টের তারকা প্রচারক। প্রচার করতে লাগলেন, দিল্লি বাংলাকে তার প্রাপ্য দিচ্ছে না।

অন্যদিকে কংগ্রেসের হয়ে প্রধান প্রচারক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। বারবার দিল্লি থেকে এরাজ্যে প্রচারে আসছিলেন ‘নতুন বাংলা গড়ার’ স্লোগান তুলেছেন। তবে এই সময় রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে গড়লেন রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস। বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটে লড়েছিল এই নতুন দল কিন্তু দাগ কাটতে পারেনি।


এই নির্বাচনে আগের নির্বাচনের তুলনায় কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে যায়। কংগ্রেস পায় ৪০টি আসন। ফের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। ফের মুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভোটে জিতে মন্ত্রিসভার ফেরেন। এই নির্বাচনে শুধু সিপিএম একাই পেয়েছিল ১৮৮টি আসন। তাছাড়া ফরওয়ার্ড ব্লক আরএসপি এবং সিপিআই পেয়েছিল যথাক্রমে ২৬,১৮ এবং ১০টি আসন। রাজীব গান্ধী অবশ্য বলেছিলেন তার ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় নি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য কংগ্রেস হেরে গিয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.