গোটা দেশে ১৯৭৭ সালের নির্বাচন সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটল। অকংগ্রেসিরা দিল্লিতে ক্ষমতা দখল করল। এর কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হতে চলেছেন।

১৯৭২ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী দলগুলি একেবারে কোণঠাসা অবস্থায়। রাজ্যে তখন সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নেতৃত্বে ক্ষমতায় কংগ্রেস সরকার। ভোটের পর সিপিএম কেমন যেন হাত গুটিয়ে বসে গিয়েছে।
ওই অবস্থায় প্রফুল্ল চন্দ্র সেন এবং জ্যোতি বসু কিছুটা কাছাকাছি এলেন গণতন্ত্র পুন: প্রতিষ্ঠার কথা ভেবে । সিপিএমের সেই সময় প্রায় ৪০ হাজার কর্মী বাড়িছাড়া পাড়া ছাড়া অবস্থায় রয়েছে। ঘর ছাড়াদের ঘরে ফেরাতে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে নাগরিক কনভেনশন হল- বক্তা প্রফুল্ল সেন এবং জ্যোতি বসু।

এদিকে ১৯৭৪ সালে দেশে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জয় প্রকাশ নারায়ন। কলকাতায় এসে প্রথমে ময়দানে বক্তৃতা করলেন জয় প্রকাশ নারায়ন। যদিও তারপর ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে নাগরিক সম্মেলনে ঢুকতে গিয়ে কংগ্রেসিদের হাতে নিগৃহীত হলেন। এরপর ব্রিগেডে মহা মিছিল হল -জয়পকাশের সঙ্গে জ্যোতি বসু ও প্রফুল্ল সেন।

এদিকে আবার আবার ১৯৭৫ সালে ২৫ জুন মধ্যরাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হল। ইন্দিরা গান্ধীর অন্যতম কাছের লোক ও মন্ত্রণাদাতা মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় তখন প্রায় ডিক্টেটর হয়ে উঠলেন।তবে দেশে বিদেশে সমালোচনা এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুকূলে থাকায় জরুরী অবস্থা তুলে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হল। অনেকেই ঘরছাড়া তার উপর সন্ত্রাস এবং রিগি়ংএর ভয়ে প্রার্থী দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই সিপিএম। তাই অনেক বেশি আসন জনতা পার্টিকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে গেল সিপিএম।

১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবি হল। খোদ ইন্দিরা গান্ধী হারলেন। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের বড় বড় নেতাদের পরাজয়। দিল্লিতে ক্ষমতায় এলো জনতা পার্টি। প্রধানমন্ত্রী হলেন মোরারজি দেশাই। কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার পতনের পর রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের দাবি উঠল। ৩০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হল।

নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল ফলে সিপিএম এর নেতৃত্বে ৬টি বামপন্থী দলের জোট হল বাম ফ্রন্ট। কদিন আগে লোকসভা ভোটে জনতা পার্টি ১৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১৬টি জিতে যায়। অন্যদিকে সিপিএম ১৮টি,আর এসপি দুটি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ৩টি আসন পায়। অন্যদিকে কংগ্রেস এবং সিপিআইয়ের করুণ দশা। কংগ্রেস মাত্র তিনটি আসন এবং সিপিআই পায় শূণ্য। এরপর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসকে হারাতে সিপিএম তখন জনতা পার্টির সঙ্গে জোট করার কথা ভাবছে। সেক্ষেত্রে প্রফুল্ল সেনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার কথা বলেছিল বামেরা। কিন্তু আসন সমঝোতা হলো না বামেদের প্রস্তাবে রাজি হলেন না প্রফুল্ল সেন। বামেরা বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১০০টি আসন চেয়েছিল কিন্তু জনতা পার্টির ৮০ বেশি আসন ছাড়তে রাজি হল না।

শুধুমাত্র কংগ্রেস বিরোধী হাওয়ার নয় সিপিএমের সংগঠনেরও যে একটা ভূমিকা ছিল লোকসভার ফলাফলে সেটা জনতা পার্টি অনুভব করতে পারেনি। ফলে ১৯৭৭ সালে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। বামফ্রন্ট ২৩১ আসন পেল যার মধ্যে সিপিএম একাই ১৭৭টি আসন পেল। সেখানে জনতা পার্টি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে পেল ২৯টি আসন।আর কংগ্রেসের জুটলো ২০টি মাত্র আসন।

এরপরে ২১জুন জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নেন৷ ২৪ জুন বিধানসভার অধিবেশন বসে এবং স্পিকার হন সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লা ৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।