১৯৬৭ সালের নির্বাচনে গোটা দেশে ৯টি রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটেছিল। তবে তামিলনাড়ু ছাড়া আর কোনও রাজ্যে অ-কংগ্রেসি সরকার স্থায়ী হয়নি। তবে তুলনায় কেরল এবং ওড়িশায় বেশ কিছু দিন টিকে ছিল।১৯৬৭ সালের মার্চ থেকে ১৯৬৮ সালের জুনের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে ১৬টি মন্ত্রিসভার পতন ঘটেছিল। পশ্চিমবঙ্গেও ১৯৬৭ সালে অজয় মুখোপাধ্যায় নেতৃত্বে প্রথমে যুক্তফন্ট সরকার গড়লেও তা স্থায়ী হয়নি । তখন ড: প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে কংগ্রেসের কোয়ালিশন সরকার গড়লেও সেই মন্ত্রিসভাও টেকেনি।

শুধু তাই নয় ১৯৭২ সালে ফের বিধানসভা নির্বাচন করার আগে এ রাজ্যে আরও দুবার নির্বাচন করতে হয়েছিল ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালে। কিন্তু সেই সরকারগুলিও স্থায়ী হয়নি উল্টে বেশ কিছুটা সময় রাষ্ট্রপতি শাসন থেকেছে।এই পাঁচ বছর সময় কংগ্রেসের দলত্যাগীরা মিলে নতুন দল তৈরি হয়েছে অন্যদিকে সিপিএম ভেঙে নকশালপন্থীদের জন্ম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ অন্ধপ্রদেশ বিহারে নকশাল আন্দোলন এবং আঞ্চলিকতার দাবিতে রাজ্যে অস্থিরতায় বেড়েছিল। তাছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্রোতের মতো পশ্চিমবঙ্গে শরণার্থী প্রবেশের ঘটনা ঘটছিল। ফলে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে ১৯৭২ সালের ১১ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল।

তবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বির্তকিত হল এই বাহাত্তরের নির্বাচন। কারণ ওই নির্বাচনে বেশ কিছু কেন্দ্রে কারচুপি জালিয়াতি সন্ত্রাস রিগিং হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। যার জন্য পরবর্তীকালে বামফ্রন্ট বিশেষত সিপিএম নেতারা বাহাত্তরের নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে আক্রমন করত।

তবে এই বাহাত্তরের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমঝোতা বা আঁতাত একটু অন্যরকম ছিল। সেইবার প্রথম নব কংগ্রেস অর্থাৎ ইন্দিরা গান্ধীর সমর্থক কংগ্রেস এবং সিপিআইয়ের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হয়। গড়ে ওঠে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মোর্চা। আগেই অবশ্য বাংলা কংগ্রেসের ভাঙ্গন ঘটেছিল এবং অজয় মুখোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন দলের একাংশ নব কংগ্রেসে মিশে যায়। তবে বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস সিপিএম এর সঙ্গে ছিল। ফরওয়ার্ড ব্লক কংগ্রেস এবং সিপিএম দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালালেও শেষ মুহূর্তে সিপিএমের সঙ্গে যায়। আরএসপি ১৯৭১ কোন ফন্টে যোগ না দিলেও এবারে সিপিএমের দিকে আসে।

পশ্চিমবঙ্গে সিদ্ধার্থ শংকর রায় তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সবচেয়ে কাছের লোক। ভোটের আগেই সকলে অনুমান করেছিল কংগ্রেস জিতলে সিদ্ধার্থ শংকর রায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু তিনি বাহাত্তরের নির্বাচনে দাঁড়াননি। তখন রাজ্যে কংগ্রেসের প্রভাব বিস্তার করছে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সোমেন মিত্র প্রদীপ ভট্টাচার্যের মত ছাত্র-যুব নেতারা।

কংগ্রেস সিপিআই জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। ২৮০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস একাই পেল ২১৬টি আসন। তাছাড়া সঙ্গী সিপিআই পেয়েছিল ৩৫টি আসন। সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা করে ওঠে। এই ভোটে সিপিএম নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থা খুবই খারাপ হয়। সিপিএম নিজে পেয়েছিল মাত্র ১৪টি আসন। কিন্তু ভোটে কারচুপি রিগিং এর অভিযোগ তুলে সিপিএম ১৯৭২ থেকে ৭৭ বিধানসভায় অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।