দ্বিতীয় বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক আইন-শৃংখলার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ১৯৫৭ সালে পঞ্চায়েত আইন প্রবর্তিত হয়। বাম দলগুলি পৌর নির্বাচনে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের দাবি তোলে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ভীষণভাবে বেড়ে যাওয়ায় ১৯৫৯ সালে বাম দলগুলি খাদ্য আন্দোলন শুরু করে।

এদিকে আবার বিধান রায় মন্ত্রিসভায় এবং কংগ্রেস দলে অন্তর্বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় দলের সঙ্গে কোনওরকম পরামর্শ না করেই‌ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সেই প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে আইনমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় পদত্যাগ করেন। তাঁর ওই পদত্যাগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কমিউনিস্টদের আন্দোলন সংগঠিত করতে সহায়তা করেছিল। তখন সিদ্ধার্থ শংকর রায় ফের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ‌ নির্দল প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাম দলগুলি তাকে সমর্থন করে। তাদের সমর্থন পেয়ে সিদ্ধার্থ রায় কংগ্রেস প্রার্থী বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই নির্বাচনে পরাজিত করেন।

যা পরিস্থিতি এবং গত নির্বাচনে বাম প্রার্থীকে হারাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়কে। ফলে ১৯৬২ সালে এ রাজ্যের তৃতীয় বিধানসভা নির্বাচনে ডা: রায়ের জয় সুনিশ্চিত রাখতে কলকাতায় নিরাপদ চৌরঙ্গী কেন্দ্র এবং কংগ্রেসের ঘাঁটি বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী হন। দুটি কেন্দ্র থেকেই অবশ্য বিধান রায় জয়ী হয়েছিলেন। তবে এই নির্বাচনে কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য পরাজয় ঘটে তাদের মধ্যে ছিলেন শ্রমমন্ত্রীর আব্দুস সাত্তার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনাথ বন্ধু রায়, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ভূপতি মজুমদার।

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনমত এবং বিক্ষোভ আন্দোলন সংগঠিত করলেও বামেরা রাজ্যের তৃতীয় বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। বহু বাম নেতার পরাজয় হয় নির্বাচনে। দ্বিতীয় বিধানসভা নির্বাচনে পিএসপি যেখানে ২১টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছিল সেই পিএসপি ২১ জন বিধায়ক ১৯৬২ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। তবে ওই দলটি পাঁচটি আসন পায়। সিপিআইয়ের আসন গত নির্বাচনের ৪৬ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০। তবে এই নির্বাচনে বামের ঐক্যের অভাব ছিল। বৃহত্তম বাম দল সিপিআই-তে তখন থেকেই ভাঙ্গনের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠতে থাকে।

১৯৬২ সালের নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৫২টি । কংগ্রেস ২৫২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল১৫৭টি আসন এবং সিপিআই ১৪৫টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ৫০টি আসন। এরপরে ছিল ফরওয়ার্ড ব্লক ৩৪টি আসনে লড়ে জিতেছিল ১৩টি আসন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.