স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শাসক দলের অধ্যাপক সংগঠনের একচেটিয়া প্রভাবে ভাগ বসাতে চাইছে ওয়েবকুটা। এর জন্য বিশেষ পরিকল্পনাও করেছে তারা। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় জেলা কমিটি তৈরি করে তারা আন্দোলনে ঝাঁপাতে চাইছে। আপাতত ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত জল মাপার পালা চলছে। তবে তারা আশাবাদী, এ ব্যাপারে ভালোই সাড়া মিলবে।

পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় যেমন কলকাতা, যাদবপুর, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রভারতীতে যে শিক্ষক সমিতিগুলি (কুটা, জুটা, ভুটা, আরবুটা) রয়েছে, সেগুলি ওয়েবকুটারই সহযোগী সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ওয়েবকুটা সেভাবে সরাসরি আন্দোলনে নামে না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিগুলিই তা করে। কিন্তু নতুন সরকার বিগত কয়েক বছরে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তৈরি করেছে, সেখানে এখনও কোনও স্বীকৃত শিক্ষক-অধ্যাপক সমিতি গড়ে ওঠেনি। তাই সেখানে ওয়েবকুটা খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। আবার নতুন অধ্যাপকদের মধ্যে একটা বড় অংশেরই তৃণমূল সরকারের প্রতি সহমর্মিতা রয়েছে। কিন্তু তাঁরা আবার পেশাগত বঞ্চনাতেও ক্ষুব্ধ। এই জায়গাতেই একটি কেন্দ্রীয় ব্যানারে ঢুকতে চাইছে ওয়েবকুটা।

সংগঠনের এক নেতা বলেন, শিক্ষকরা আমাদের জানাচ্ছেন, ডিএ-র বৈষম্য, সপ্তম বেতন কমিশন লাগু না হওয়ার ফলে যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তাতে তাঁরা হতাশ। কিন্তু তাঁদের বলার জায়গা বিশেষ নেই। সেই জায়গাটাই আমরা তৈরি করে দিতে চাইছি। আন্দোলনের মূল দাবির জায়গাই হবে এই দু’টি। ওয়েবকুটার কলেজভিত্তিক ডিস্ট্রিক্ট কমিটি খুবই সক্রিয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি সেভাবে সুসংহত ছিল না।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক সৈয়দ হাফিজ মইনুদ্দিনকে সভাপতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক রামপ্রহ্লাদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে গড়ে উঠেছে ওয়েবকুটার এই বিশেষ কমিটি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অধ্যাপক মইনুদ্দিনকে ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন বেজে গিয়েছে। রামপ্রহ্লাদবাবু আবার কৌশলগত কারণে মুখ খুলতে চাইছেন না। তিনি বলেন, গোটা বিষয়টিই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে, আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।