স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : এই সপ্তাহের শুরু থেকেই টানা গরম চলছিল বাংলা জুড়ে। কিন্তু স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে নিম্নচাপ। কার্ত্তিক মাস শুরু হয়ে গিয়েছে বোঝাই যায়নি। ষষ্ঠী থেকে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এগিয়ে আসতেই আকাশের মুখ ভার হয়ে যায়। তারপর বৃষ্টির সম্ভাবনা কাটিয়ে আজ নবমী। রোদ ঝলমলে আকাশ নেই। মেঘলা আকাশ থাকলেও মোটের উপর অস্বস্তিকর আবহাওয়া নেই দক্ষিণবঙ্গে তা স্পষ্ট।

এর আগে নিম্নচাপের আসন্ন খবর সিঁদুরে মেঘ দেখছিল আম্ফান ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলি। বর্ষা জুড়ে ভালো বৃষ্টি হওয়ায় নদী-খাল-বিল সব জায়গাতেই জলধারণ ক্ষমতা কমেছে। সুন্দরবনের বাঁধের ইতিমধ্যেই শোচনীয় পরিস্থিতি। এই অবস্থায় নিম্নচাপের ঝাপ্টা বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি করতে যথেষ্ট। বিশেষ করে গোটা রাজ্য যখন উৎসবমুখর। ঝোড়ো বাতাসে মণ্ডপের ক্ষতি হলে বা কোথাও কয়েক ঘণ্টার জন্য জল দাঁড়িয়ে গেলে সেটাই পরিস্থিতি ঘোরালো করে তুলতে পারে। সেটা আঁচ করেই সুন্দরবনের মানুষকে আজ বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া বারণ।

হাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়ে, মধ্য বঙ্গোপাসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ছিল। নিম্নচাপ ছিল সাগর দ্বীপ থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, মোটামুটি দুপুর নাগাদ নিম্নচাপ বাংলার সাগর দ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী উপকূল হয়ে স্থলভাগে ঢুকবে। অঞ্চলটি পাথরপ্রতিমা হওয়ার জোর সম্ভাবনা। তবে রাতে মৌসম ভবন জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপ হওয়ার সম্ভাবনা কমছে। এমনিতে গত বছর নভেম্বর এবং মে মাসে পর পর দু’টি ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনে আছড়ে পড়ে। অক্টোবর-নভেম্বর এমনিতেই ঘূর্ণিঝড়-প্রবণ মাস। এই নিম্নচাপটিও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে অল্প সময়ের মধ্যে বিরল দুর্যোগের মধ্যে পড়তে হত বাংলাকে।

পুজো নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ালেও ষষ্ঠীতে আবহাওয়া মনোরম করে দিয়েছে নিম্নচাপ। কলকাতার তাপমাত্রা একটানা সাত দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ছিল। তারপরে তা ধীরে নেমে আসে ২৭ ডিগ্রিতে। যা চলতি সময়ের স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ডিগ্রি কম। কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ০.৬ মিলিমিটার। বলার মতো বৃষ্টি হয়েছে দিঘা ও সাগরে, ২৫ মিলিমিটার। আবহবিদদের পর্যবেক্ষণ, এ দিন মেঘের সঞ্চার হয়েছে মূলত বাংলাদেশের উপরেই। তাই সেখানেই বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।