নিউ ইয়র্ক: করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই বারবার মাস্ক পররা কথা বলা হচ্ছে। সঙ্গে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলার কথাও বলা হচ্ছে। তারপরও সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাওয়ায়, প্রশ্ন উঠছে, এসবের আদতে কতটা প্রভাব রয়েছে। মাস্কে কী আদৌ করোনা সংক্রমণ আটকাতে পারে?

সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মাস্ক পরা থাকলে, একধাক্কায় অনেকটাই কমে যেতে পারে করোনা সংক্রমণ।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার দাভিস স্কুল চিলড্রেন’স হাসপাতাল হিসবে কষে দেখিয়েছে যে ঠিক কতটা সুুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে মাস্ক পরলে। দেখা গিয়েছে, এতে শুধু অসুস্থ ব্যক্তির থেকে ভাইরাস ছড়ানোই আটকায় না। সুস্থ মানুষকেও নিরাপত্তা দেয়।

ওই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গবেষক ড. ডিন ব্লুমবার্গ বলেন, প্রত্যেকেরই মাস্ক পরা উচিৎ। যারা মাস্ক পরায় বিশ্বাস করছেন না, তাঁরা বিজ্ঞানকে অবিশ্বাস করছেন।’

প্রথমত কেউ হাঁচলে বা কাশলে যে ড্রপলেট বেরোয় সেখান থেকে করোনা ছড়ায়। সেসব ড্রপলেট মানুষের চুলের থেকে তিনগুন বড়। এছাড়া কথা বলার সময় মুখ থেকে যে এরোসোল বেরোয়, সেগুলি খুবই ছোট, মানুষের চুলের ১০০ ভাগের ১ ভাগ। বদ্ধ ঘরে থাকলে, সেই এরসোল থেকে করোনা ছড়াতে পারে।

ভালোভাবে হাওয়া বাতাস খেললে ওই এরোসোল উধাও হয়ে যায়, কিন্তু বন্ধ ঘরে সেটা সম্ভব নয়। তাই মাস্ক পরলেই সেটা আটকানো সম্ভব।

গবেষকরা দেখিয়েছেন, মাস্ক পরলে সংক্রমণ কমতে পারে অন্তত ৬৫ শতাংশ। আর সোশ্যাল ডিসটভান্সিং মেনে চললে, সংক্রমণের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ পযফন্ত কমে যায়।

গত কয়েকদিন ধরে একটি খবরে আরও বেশি উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস বায়ুবাহিত। অর্থাৎ বাতাস থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাস। নতুন এই তত্ত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে কী ভয় বাড়ছে আরও? এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিফ সায়েন্টিস্ট সৌম্যা স্বামীনাথন।

সম্প্রতি, ৩২টি দেশের ২৩০ জন বিজ্ঞানী জোর গলায় দাবি করেছেন, করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে নিজেদের নির্দেশিকা পাল্টানোর আর্জি জানানো হয়েছে। এরপরই হু নতুন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

সৌম্যা স্বামীনাথন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে করোনার জীবাণু বাতাসে বাঁচতে পারে, সংক্রমণও ঘটাতে পারে। এই যে আমরা কথা বলছি, গান গাইছি এমনকী শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছি এর মাধ্যমে মুখ থেকে অসংখ্য ছোট ছোট জলের ফোঁটা নির্গত হচ্ছে। এগুলির আকার ভিন্ন ভিন্ন।

যেগুলি বড় সেগুলি ১-২ মিটারের মধ্যে মাটিতে পড়ে যায়। তাই সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এর কথা বলা হয়। তবে যেসব কণা আকারে অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থাৎ ৫ মাইক্রনেরও কম, তাদের বলে এরোসোল। এগুলি বাতাসে আরও কিছু সময় থাকতে পারে, মাটিতে পড়তে একটু বেশি সময় নেয়। ফলে, হাওয়ায় এদিক ওদিক হতে পারে সেগুলি। সেই কণা কেউ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ কর;এ, সংক্রমণ হতে পারে।

তবে তিনি এও বলেছেন, করোনার বায়ুবাহিত সংক্রমণ হামের মত নয়। তিনি জানিয়েছেন, হামের জীবাণু প্রকৃত অর্থেই বায়ুবাহিত। এই রোগ প্রাথমিকভাবে ছড়ায় বাতাস থেকে। তাঁর কথায়, এটি হামের মত বাতাসে ছড়ালে এতদিনে আমরা সকলে করোনা আক্রান্ত হতাম।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব