স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: নিমতায় অস্ত্র কারখানার হদিশের খবর সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এলাকার বাম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। এই ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কিনা সেই বিষয়ে কোনও কথা খরচ না করলেও, ঘটনায় কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিন তিনি বলেন, “সামনেই পুরসভা ভোট। তার আগে এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই এলাকায় কোনও মস্তানের জন্ম হয় নি। এই প্রথম এরকম অস্ত্র কারবারের ঘটনা সামনে এল। আমি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। শুনেছি দুই জন ধরা পড়েছে। কিন্তু, এই অস্ত্র তৈরির ব্যবসায় আরও অনেকে জড়িত। কারা লোহা সরবরাহ করত ? কারা তৈরি বন্দুক কিনত? সবই পুলিশকে খুঁজে বের করতে হবে। আমি জানি না এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ আছে কি না ? আমি কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না। তবে পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপগুলি তদন্তে খুঁজে বের করুক, সেটাই চাই।”

যদিও, নিমতায় অস্ত্র কারখানা থেকে সিআইডি এবং পুলিশের যৌথ তল্লাশি অভিযানে ৭টি পাইপ গান উদ্ধার করেছে বলে খবর। সিআইডি’র দল এই ঘটনার তদন্তে নেমে অস্ত্র ব্যবসায়ী তথা বন্দুক তৈরির মূল কারিগর দুলাল সরকার এবং অস্ত্র কারবারি প্রকাশ গায়েনকে গ্রেফতার করেছে। এদিন সকালে উত্তর দমদমের বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য ওই এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী দুলাল সরকারের স্ত্রী ঝর্না সরকারের সঙ্গে কথা বলেন। তার কাছ থেকে ঘটনার খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করেন।

যদিও এই বিষয়ে ঝর্না সরকারের বক্তব্য, “আমরা বহু বছর একসঙ্গে থাকলেও স্বামী লোহার কাজ করে জানতাম, তবে বন্দুক তৈরি করে আগে জানতাম না। আমাকে এবিষয়ে কিছুই বলত না ও।”

শুধু তাই নয়, এদিন শ্রীদুর্গা পল্লী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, অভিযুক্ত বৃদ্ধ দুলাল সরকার এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে বন্দুক তৈরি করত। পাড়ার লোকজন জানত, ওই বৃদ্ধ লোহার কাজ করে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যদিও গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।