কলকাতা: বাংলায় দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের সাফল্যের মুখোশ খুলতে উদ্যোত হলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার৷ ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দক্ষিণ ২৪ পরগণার হরিণাভিতে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্যের সমর্থনে বক্তব্য রাখছিলেন৷ নোটবন্দী থেকে অসহিষ্ণুতা – আলাদা-আলাদা বিষয়ে মোদী সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেছেন মানিক৷

দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মানিক বলেছেন, আর একবার মোদী সরকার দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনবে৷ এও জানাতে ভোলেননি, মোদীপ পূর্ববর্তী সরকারের (মনমোহন সিং সরকার) ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে বহু প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশে ক্ষমতায় এসেছিল মোদী৷ প্রতিশ্রুতি পালন তো করেননি, তার বদলে দেশবাসীকে বিপদে ফেলেছেন৷

মানিক বলেন, ভোটে পশ্চিমবঙ্গে যা যা ঘটনা ঘটেছে জানি৷ তা আর নতুন করে বলছি না৷ তবে ত্রিপুরায় প্রথমপর্বের নির্বাচনে শাসক বিজেপি যা ঘটিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের থেকেও খারাপ৷ আমরা নির্বাচন কমিশনকে ফের নির্বাচন করতে বলেছি৷ আর এক-দিনের মধ্যে জানা যাবে৷ স্বাধীনতার পর এবং জরুরি অবস্থার পর যে লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচনগুলিকে বাদ দিলে এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ একটি ভিন্ন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ দিল্লিতে বিজেপির বন্ধু দলগুলি বাদ দিলে বাকিদলগুলি মতাদর্শগত ফারাক থাকা সত্ত্বেও, দৃষ্ঠিভঙ্গীর তফাত থাকা সত্ত্বেও, একজোট হয়েছে৷ সকলেই বলছে, আগে দেশকে বাঁচাতে হবে৷ নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে হবে৷

মানিকের মতে যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তারাও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছেন৷ বৈজ্ঞানিক, লেখক, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা, নাট্যকার – সকলেই৷ সকলের মতামত দেশ বিপন্ন৷ দেশকে বাচাতেই হবে৷ আরও একবার মোদী সরকার আসার অর্থ ভারতে গণতন্ত্র বলে কিছুই থাকবে না৷ মানিকের মতে, ‘‘২০১৪ সালে যে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পালনের প্রলোভন দেখিয়ে মোদী সরকার দেশে ক্ষমতায় এসেছিল তা কিছুই হয়নি৷ হওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি৷ জিনিসপত্রের কালোবাজারি বেড়েছে৷ বেআইনি মজুদ বেড়েছে৷ আগের সরকারকে গালমন্দ করে মোদী ক্ষমতায় এসেছিল৷

কিন্তু অসে কী করে দেখালো? যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না, তাদের অ্যাকাউন্ট খোলা হল৷ বলা হল অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা আসবে৷ কেউ কখনও এই কথা শোনেনি৷ ঘাম ঝড়ল না টাকা রোজগার হয়ে যাবে কী করে? মানুষ কিছুদিন পরেই ওই চালাকি বুঝতে পারলো৷

মানিকের বক্তব্য, ইলেকটোরাল বন্ডের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ টাকাই বিজেপির কোষাগারে যাচ্ছে৷ মোদীর প্রতিশ্রুতি মিথ্যা তা মানুষ ধরে ফেলেছে৷ এদিকে লোটবন্দীর পর মানুষ কাজ হারিয়েছে, দেশে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, দেশে ৪২ শতাংশ কৃষক আত্মহত্যা বেড়েছে৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংস্থাগুলি জোর দেখিয়েছে৷ কিন্তু এত সব খিচুর পরেও সংসদে মোদীকে জবাব দিতে দেখা যায়নি৷ সংসদে কেন এত এধিবেশন কম হয়েছে, সেই উত্তর নেই৷