লন্ডন: দীর্ঘ ৪৪ বছরে যা করে দেখাতে পারেননি গ্রাহাম গুচ কিংবা মাইকেল ভনরা। তাই করে দেখালেন একজন আইরিশম্যান। তিনি ইয়ন মর্গ্যান। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের ট্রফি খরা অবশেষে কাটল একজন এক ভিনদেশীর ভাগ্যে।

রবিবার ফাইনাল শেষে ইয়ন মর্গ্যানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এক আইরিশম্যানের ভাগ্যেই কি বিশ্বকাপে অবশেষে কাজ করল ইংল্যান্ডের ভাগ্য?’ উত্তরে ডাবলিনে বেড়ে ওঠা ইংরেজ অধিনায়ক জানালেন, ‘ইংল্যান্ডের এই বিশ্বজয়ী দল বৈচিত্র্যে ভরপুর। ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও দলে একাধিক ক্রিকেটারের শিকড় রয়েছে ভিন্ন দেশে।’ একইসঙ্গে মর্গ্যানের সংযোজন, ‘আমাদের এই বিশ্বজয়ে সহায় হয়েছেন আল্লাহও। আদিল রশিদের সঙ্গে এই বিষয়ে আমার কথা হয়েছিল। ও বলেছিল আল্লাহ নিশ্চয় আমাদের সঙ্গে। এই ইংল্যান্ড দলে আমরা অনেকেই ভিন্ন প্রেক্ষাপট ভিন্ন দেশ কিংবা ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে উঠে এসেছি। যা অত্যন্ত কঠিন মুহূর্তেও আমাদের হাসিখুশি থাকতে সাহায্য করে।’

আরও পড়ুন: জোড়া দেশের জার্সি গায়ে মর্গ্যান যেন ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’

উল্লেখ্য রবিবারের সন্ধ্যায় ক্রিকেট মক্কা সাক্ষী থাকল বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম সুপার ওভারের। সুপার ওভারেও ম্যাচে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের দু’দলের মধ্যে ফারাক গড়ে দেয় বাউন্ডারির সংখ্যা। নির্ধারিত ৫০ ওভার ও সুপার ওভার মিলিয়ে ইংল্যান্ড যেখানে ২৬টি বাউন্ডারি হাঁকায়, নিউজিল্যান্ড সেখানে হাঁকায় ১৬টি বাউন্ডারি।

আরও পড়ুন: দিল ধড়কনে দো…টেনিস থেকে ক্রিকেট, সেরা রাতের সাক্ষী রইল ক্রীড়াদুনিয়া

টস জিতে রবিবাসরীয় লর্ডসে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। হেনরি নিকোলসের ৫৯, টম ল্যাথামের ৪৭ রানের সৌজন্যে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে বেন স্টোকস-জোস বাটলারের ১১০ রানের পার্টনারশিপে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে একই স্কোরে শেষ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও ১৫ রানে শেষ করে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। কিন্তু আইসিসি’র নিয়মের জাঁতাকলে পড়ে হ্যান্ডশেকিং দূরত্ব থেকে বিশ্বজয়ের ট্রফি রেখেই ফিরতে হয় নিউজিল্যান্ডকে।

অন্যদিকে দেশের মাটিতেই প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ চেটেপুটে নেয় প্রথম ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ।