সোয়েতা ভট্টাচার্য,কলকাতা: সাধারন মানুষ বনধকে সমস্যার সমাধান বলে মনে করে না সে কথা অনেক দিন ধরেই স্পষ্ট। তবে এবার বামেদের কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা দু’দিনের সাধারণ ধর্মঘটে বাড়ি থেকে নিজেদের কাজে বেরিয়ে একপ্রকার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল রাজ্যবাসী। বন্ধের দ্বিতীয় দিনের সকাল থেকে বেশ কয়েকটি স্টেশনে বনধ সমর্থকেরা অবরোধ করে৷ ফলে রয়েকটি রুটে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল৷ তাই দেরিতে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছে মানুষ।

আর পাঁচটা দিনের মতোই এদিন সকালে শিয়ালদহ চত্তরে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারন মানুষ বনধকে খারাপ সৃত্মিকে মুছে ফেলে বন্ধের দিনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কার্যত বনধ সমর্থকেদের বুঝিয়ে দিলেন তারা৷ আর বনধকে সমর্থন করে না। কলকাতা 24×7-কে এক ট্রেনের এক যাত্রী জানান,” বনধের মাধ্যমে কোনও দিনই কোনও সমাধানের পথ বের হয়নি। আজ এই বন্ধের জেরে দেড় ঘন্টা দেরিতে পৌঁছলাম। নদিয়া জেলার শিমুরালিতে আমাদের ট্রেনটি কে বন্ধ সমর্থকেরা আটকে দেয়। তবে আমরা অনেকেই যারা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি তাদেরকে অফিসে আসতেই হবে”

অন্যদিকে বনধের দ্বিতীয় দিনে শহরের অফিসপাড়া বিবাদি বাগেও অন্যদিনের মতো স্বাভাবিক ছবি। এই অফিসপাড়ায় অধিকাংশ অফিস যাত্রী বলেন তারা কোনও দলেরই বনধকেই সমর্থন করে না। এই ধর্মঘট শুধু মাত্র সাধারন মানুষের হয়রানি করে বলে দাবি করেন তারা। এক মহিলা অফিস যাত্রী জানান তিনি দুর্গানগর থেকে প্রতিদিন অফিসের জন্য ডালহাউসি আসেন। এই বন্ধের জন্য আজ বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘন্টা আগে বেরিয়েছেন। তবে রাস্তাঘাটে যানবাহন পর্যাপ্ত ছিল। কোনও সমস্যায় পরতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

প্রতিদিনের মতোই ধর্মতলার বাস ডিপোর চেনা ব্যাস্ত ছবিই ধরা পরে। পুরুলিয়া থেকে এক যাত্রী ধর্মতলাতে নেমে জানান,”সকাল 8টা নাগাদ বাসে উঠেছি।শহরে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ধর্মঘট শুধু সাধারন মানুষের সময় নষ্ট করে। এবার দেশে ধর্মঘটের রেওয়াজ বনধ হওয়ার প্রয়োজন”