কোঝিকোড়: বেশ কয়েক বছর আগে পেরেছিলেন এক ব্রিটিশ কোচ। তারপর পারলেন এই স্প্যানিশ ভদ্রলোক। হ্যাঁ, লাল-হলুদে তাঁর কোচিং কেরিয়ারের প্রথম ইনিংসে সমর্থকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছিলেন ট্রেভর জেমস মরগ্যান। আর প্রথম বছরে অল্পের জন্য ইস্টবেঙ্গলকে ট্রফি না এনে দিতে পারলেও লাল-হলুদ জনতার রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বাসা বেঁধে নিয়েছেন আলেজান্দ্রো মেনেন্দেস গার্সিয়া।

টানা দু’ম্যাচ জিতে লিগের শুরুটা ভালো হলেও হঠাৎই তিন ম্যাচ হেরে ছন্দপতন। তবে কঠিন সময় হাল ছাড়েননি রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলের প্রাক্তন এই কোচ। পুরো দল হাতে না পেয়েও হিমশীতল মানসিকতায় তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন একটা স্বপ্নের দল। যে দল সমর্থকদের বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে পিছিয়ে পড়লেও ঠিক ফিরে আসব আমরা। এমন একাধিক ম্যাচ সদ্য শেষ হওয়া আইলিগে উপহার দিয়েছে টিম আলেজান্দ্রো।

আরও পড়ুন: ফৌজি টুপি পরে রাজনীতি করছে কোহলিরা, শাস্তির দাবি তুলল পাকিস্তান

হাজার প্রতিকূলতার মাঝেও এক সুতোয় দলকে বাঁধতে পেরেছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। তাইতো অনেকটা এগিয়ে যাওয়া চেন্নাইয়ের সাথে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে থাকতে পেরেছে দল। মোক্ষম সময় জ্বলে উঠে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে আকবর নওয়াজের ছেলেদের। প্রথম পর্বের শেষে খানিকটা পিছিয়ে থেকেও শেষ ল্যাপে এসে তেল খাওয়া মেশিনের মতোই ছুটেছে দল।

ইস্টবেঙ্গলকে রানার্স করে ম্যাচ শেষে জানান, ‘দল নিয়ে আমার গর্ব করা সাজে। গোটা মরশুমে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে ছেলেরা। আমরা লিগে ধীরে-ধীরে উন্নতি করেছি। খারাপ সময় থেকে বেরিয়ে এসে ঈর্ষনীয় ফুটবল উপহার দিয়েছি। সুতরাং সব ভালো জিনিসগুলো সম্বল করেই আগামিদিনে এগিয়ে যেতে চাই।’

আরও পড়ুন: ২৭ বছর পর গোষ্ঠ পালের দুষ্প্রাপ্য পুরস্কার ফিরে পেল পরিবার

অল্পের জন্য খেতাব হাতছাড়া হওয়ার কোনও বিশেষ কারণ দেখছেন না। এপ্রসঙ্গে ম্যাচ শেষে তাঁর আরও সংযোজন, ‘ইতিবাচক দিকগুলিতে ফোকাস করতে চাই। চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দল আমাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশিতে শেষ করতে চেয়েছিল। দিনের শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তারা সেই ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।’

শেষ ম্যাচেও পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন দলের। বিরতিতে লকাররুমে কী পেপটক দিয়েছিলেন ফুটবলারদের? উত্তরে আলেজান্দ্রো জানান, ‘চেন্নাই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে কোনও আলোচনা করিনি। স্ট্র্যাটেজি বদলে বল পায়ে ফুটবলারদের আরও গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন: ‘রোনাল্ডোকে ছাড়াই রিয়ালকে বাঁচার পথ খুঁজতে হবে’

পরের মরশুমে আই লিগ না আইএসএল, চূড়ান্ত নয় এখনও। তাই আইলিগ ট্রফি জয়ের সুযোগ রইল কিনা সেটা সময় বলবে। তবে অপেক্ষা যে দীর্ঘায়িত হল লাল-হলুদ জনতার, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম মরশুমে দলকে রানার্স করে পরবর্তী লক্ষ্য কী? উত্তরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, স্ট্র্যাটেজির পর ম্যারাথন লিগ শেষে ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রো জানান, ‘আমি ক্লান্ত তবে হতাশ নই। সামনের কয়েকটা দিন চুটিয়ে বিশ্রাম নিতে চাই। তারপর সুপার কাপের প্রস্তুতি শুরু করব। তবে আই লিগটা ইস্টবেঙ্গলেরই প্রাপ্য ছিল।’