ভোপাল: প্রার্থী বাছাইয়ের শেষ বেলায় এসে চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। দিগ্বিজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে সাধ্বী প্রজ্ঞাকে। তবে শুরুতেই যেভাবে একের পর এক বোমা ফাটাচ্ছেন, তাতে মুখ পুড়ছে বিজেপিরই।

এমনিতেই মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞাকে প্রার্থী করায় বিতর্ক এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ছে না বিজেপিকে। তার মধ্যে মুম্বই হামলার শহিদ তাঁর অভিশাপে মারা গিয়েছিলেন বলে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের এই প্রার্থী।

এবার আরও একটা বিস্ফোরণ। বললেন, ”বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিতে মাথায় চড়েছিলাম।” রাম মন্দির নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এক সংবাদমাধ্যমে এমনটাই বলেছেন তিনি।

শনিবার এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ”অবশ্যই তৈরি হবে রাম মন্দির। বড় করেই হবে।” এই প্রসঙ্গেই ফের বলেন, ”মন্দর আমরা গড়বই। আমরাই তো মাথায় চড়ে নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম।” এখানেই থেমে থাকেননি, সেদিনের কথা বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ”আমি ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমাকে এরকম একটা কাজের শক্তি জুগিয়েছিল। দেশ থেকে একটা কলঙ্ক মুছে দিয়েছিলাম। এবার সেখানেই তৈরি হবে রাম মন্দির।”

এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই তাঁকে নোটিশ ধরিয়েছ নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফ থেকে রীতিমত সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এইভাবে বারবার নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে কমিশন। উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে। এর ফলে ধর্মীয় হিংসা ছড়াতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

শুক্রবারই শহিদ হেমন্ত কারকারেকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘‘তাঁর উপর যে পুলিশি অত্যাচার হয়েছে তার নেতৃত্বে ছিলেন হেমন্ত কারকারে।’’ তাঁকে দিয়ে জোর করে ২০০৮-এর মালেগাঁও বিস্ফোরণের যুক্ত হওয়ার কথাও নাকি বলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়৷ ব্যক্তিগত রাগ থেকেই প্রজ্ঞা হেমন্তকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। যার জেরে মুম্বই হামলার সময় হেমন্ত নিহত হন৷ দাবি করেছেন বিজেপির প্রার্থী৷

এরপরই কমিশনে রিপোর্ট যায় সাধ্বী প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে৷ প্রতিবাদ আসতে থাকে বিভিন্ন মহল থেকে৷ বেগতিক বুধে সাধ্বীর মন্তব্য ব্যক্তিগত বলে দায় এড়ায় বিজেপি৷ তারপরই শহিদ হেমন্ত কারকারেকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি৷