স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গাঁটছড়া বেঁধেও কোনও লাভ হল না৷ উপনির্বাচনের ফল বেরোতেই সেকথা স্বীকার করে নিল সিপিএম-কংগ্রেস, দুপক্ষই৷ সুজন চক্রবর্তী- সোমেন মিত্ররা জানালেন, মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে তাঁরা ব্যর্থ৷

লোকসভায় আলাদা লড়াইয়ের ফল খারাপ হয়েছিল৷ তাই উপনির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল কাস্তে-হাতুড়ি৷ কিন্তু আসন সমঝোতা করে লড়েও বাম ও কংগ্রেসের ফলে বিশেষ লাভ হল না। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, সিপিএমের ভোট খানিকটা ঘরে ফিরেছে। আবার জোটের ভোট খানিকটা চলেও গিয়েছে শাসক তৃণমূলের দিকে।লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে খড়গপুর সদর কেন্দ্রে বাম ও কংগ্রেস জোটের ভোট প্রায় ৫% বেড়েছে। লোকসভায় দু’পক্ষের ভোট যোগ করলে ১০.১৬% ছিল, যা এ বার জোটের খাতায় হয়েছে ১৪.৯%। কিন্তু করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জে বাম-কংগ্রেসের ভোট লোকসভার তুলনায় কমে গিয়েছে, বেড়েছে তৃণমূলের। লোকসভায় করিমপুরে বাম ও কংগ্রেসের মিলিত ভোট ছিল ১৯.১৬% এবং কালিয়াগঞ্জে ১৬.৭৪%। যা এ বার হয়েছে যথাক্রমে ৯.০৯% এবং ৮.৬৫%।

উপনির্বাচনে সবকটি কেন্দ্রেই লড়াই হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,”মানুষ লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূলের বিকল্প বিজেপিকে ভেবেছিল। আর এবার বিজেপির বিকল্প তৃণমূল কংগ্রেসকে বেছে নিয়েছে। আমাদের ওপর এখনও সেই আস্থা নেই। এটা বাস্তব।”

কিন্তু বামেদের কি আর মানুষ চাইছেন না? সুজনবাবুর ব্যাখ্যা, এটার মানে এই নয় আমাদের চাইছে না। বিকল্প আমরাই তা মানুষের সভা-সমিতি-মিছিলে যোগদানেই স্পষ্ট। উপনির্বাচনের ফল দেখে আমরা পারলাম না। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। লেগে থাকলে রাজনীতির অঙ্ক ও তার সমীকরণের ফায়দা পাওয়া যায়। এটা ইনস্ট‍্যান্ট নুডলস নয়।

মানুষের আস্থা যে ফেরেনি, তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। তাঁর কথায়,”আমরা মানুষকে বোঝাতে ব‍্যর্থ। এটা আমাদের ব‍্যর্থতা। একটা ভাটপাড়া ছাড়া আর যৌথ কর্মসূচি কোথায় হল? মানুষ কেন আমাদের বিশ্বাস করবে? ভোটের সময় জোট করলে মানুষের ভরসা আসবে কেন?”

কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ” জোট এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। শুধু ভোটের জোট নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ