ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রদেশ সভাপতির চেয়ারে বসেই ‘একলা চলো’ বার্তা দিয়েছিলেন সোমেন মিত্র৷ কিন্তু লোকসভা ভোটের ধাক্কা বুঝিয়ে দিয়েছে এরাজ্যে ভাঙা কোমড় নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে একলা চলা সম্ভব নয়৷ শুক্রবার জেলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে নিজে সেকথা স্বীকার করে নিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ সেইসঙ্গে আবারও বামেদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন৷

প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হয়েই সোমেন মিত্র বলেছিলেন, দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে দলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে৷ তাঁর দাবি ছিল, রাহুল গান্ধীও নাকি তাই চান৷ পরে বামেদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে লোকসভার বৈতরণী পাড় হওয়ার চেষ্টা থাকলেও দুই শিবিরেরই একটা অংশের জন্য তা সম্ভব হয়নি৷ যার ফল ভুগেছে কংগ্রেস-সিপিএম দুপক্ষই৷ চারটে আসনের মধ্যে দুটি আসন খুইয়েছে কংগ্রস আর সিপিএম এসে দাঁড়িয়েছে শূন্য-তে৷ তারপরই হুঁশ ফিরেছে প্রদেশ নেতৃত্বের৷

আরও পড়ুন: ২১ জুলাই নিয়ে কমিশনের নির্দেশ কার্যকর হল না কেন, রাস্তায় কংগ্রেস

শুক্রবার বিধান ভবনে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক সাংসদ গৌরব গগৈকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রদেশ সভাপতি৷ তিনি বলেন, “এবারের ভোটে আমরা এককভাবে লড়াই করে দেখতে চেয়েছিলাম আমাদের শক্তি কতটা। প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ মানুষ ভোট আমরা পেয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সমমনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অভিন্ন কর্মসূচি করে এখন থেকেই আমাদের এগোতে হবে।”

আরও পড়ুন: বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হলেন কংগ্রেসত্যাগী তিন বিধায়ক

গত লোকসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে জোটের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ লোকসভা আসনটির ভূমিকা ছিল অন্যতম৷ সিপিএম ২০১৪ সালে জেতা ওই আসনে মহম্মদ সেলিমকে প্রার্থী করতে চাইলে বেঁকে বসেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত। তিনি দীপা দাশমুন্সিকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করতে মরিয়া ছিলেন৷ কিন্তু ভোটের ফলাফলে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন মোহিতবাবু৷ রায়গঞ্জ বিজেপির দখলে চলে যাওয়ায় এবার তাঁর টনক নড়েছে৷ সূত্রের খবর, ভোটের আগে যিনি জোটের বিরোধিতায় সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন, উত্তর দিনাজপুরের সেই মোহিত সেনগুপ্তও, এই বৈঠকে বামেদের সঙ্গে নিয়ে চলার কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: রাহুল-সোনিয়া বিদায় নিন, মমতাকেই কংগ্রেসের মাথায় দেখতে চান স্বামী

এদিন অধীর চৌধুরীর লাইনেই সোমেন মিত্র বলেন, “বামেদের সঙ্গে যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলা নিয়ে জেলা সভাপতিরা একমত হয়েছেন। তবে নির্বাচনের বহু আগে থেকেই প্রকাশ্যে তা করতে হবে। তা না হলে মানুষ সুবিধাবাদী ভাববে।”