স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: না তৃণমূল, না সিপিএম- লোকসভায় এরাজ্যে কংগ্রেসের একলা লড়াইয়ের সম্ভবনা প্রায় নিশ্চিত৷ শুক্রবার বিধানভবনে হাইপাওয়ার কমিটির বৈঠকে সেই সম্ভবনা একপ্রকার পাকা হতে চলেছে৷ সেইসঙ্গে ৪২টি আসনে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এদিন কিছুটা এগোতে পারে বলে প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর৷

সভাপতি হয়েই প্রথম থেকেই রাজ্যে একলা চলোর বার্তা দিয়েছিলেন সোমেন মিত্র৷ মনে করা হচ্ছে তাঁর দাবিতে সিলমোহর দিতে পারে হাইকম্যান্ড৷সেই ইঙ্গিত পেয়েই লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য দ্রুত ঘর গোছাতে চাইছে বাংলার কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যেই এআইসিসি-র তরফে বাংলার ভারপ্রাপ্ত নেতা গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বৈঠক বসছে প্রদেশ কংগ্রেস৷

গৌরব ছাড়াও এআইসিসি-র তিন সহ-পর্যবেক্ষক বি পি সিংহ, মহম্মদ জাভেদ এবং শরৎ রাউতের থাকার কথা রয়েছে৷ এছাড়া প্রদেশ কংগ্রেসের সমস্ত পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছে। সেইসঙ্গে পাশাপাশিই ডাক পাচ্ছেন মৌসম বেনজির নূর, বিধায়ক মইনুল হক (এআইসিসি-র সম্পাদক) ও অসিত মিত্র, প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায় এবং প্রাক্তন সাংসদ আমজাদ আলি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেডে লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে পাঠিয়েছিলেন৷ চরম অস্বতিতে পড়েছিলেন সোমেন মিত্ররা৷ কিন্তু গান্ধী পরিবারের চিঠির ভাষা এবং মঞ্চে খাড়গের বক্তব্য শুধুমাত্র বিজেপি বিরোধীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় খানিকটা দমবন্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছিলেন প্রদেশ নেতারা৷

পরে সন্ধ্যায় বিধানভবনে যখন সোমেন মিত্র-প্রদীপ ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে খাড়গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, জোটের ব্যাপারে প্রদেশ নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে তখন বিধানভবনে উপস্থিত নেতারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন৷ তারপরই এই বৈঠকের তোড়জোর শুরু করা হয়েছে বলে খবর৷

সূত্রের খবর, যেহেতু ৪২টি আসনে কংগ্রেসের একা লড়াইয়ের সম্ভবনা প্রবল তাই এখন থেকেই প্রার্থী ঠিক করতে তৎপর প্রদেশ নেতৃত্ব৷ তৃণমূল-বিজেপির সঙ্গে টক্কর দিতে পারবে এমন কাউকেই প্রার্থী হিসেবে বাছতে পারে দল৷ যার প্রস্তুতি এই বৈঠক থেকেই শুরু হয়ে যাবে৷

তবে এই বৈঠকে থাকছেন না প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি তথা বর্তমান প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান অধীর চৌধুরী এই বৈঠকে থাকছেন না বলে তাঁর রাজনৈতিক সচিব নিলয় প্রামাণিক জানিয়েছেন৷ বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান অবশ্য প্রদেশ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সি পি জোশীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য জয়পুর যাবেন বলে ওই বৈঠকে থাকতে পারবেন না।