স্টাফ রিপোর্টার, চুঁচুড়া: তেলিনিপাড়ায় গন্ডগোলের দিন কয়েকের মধ্যেই ভদ্রেশ্বর থানার ওসি নন্দন পাণিগ্রাহীকে বদলি করা হল। তাঁর জায়গায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভদ্রেশ্বর থানার দায়িত্ব নিলেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর সাইবার ক্রাইম থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রবিবার থেকে উত্তপ্ত ভদ্রেশ্বর থানার তেলিনিপাড়ায়। বুধবারও দফায় দফায় বোমাবাজি, গুলি চলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশাল পুলিশ বাহিনী-কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে চন্দননগর কমিশনারেটের তরফে।

এমনকী হুগলির ১১টি থানা এলাকায় ইন্টারনেট ও কেবল পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অশান্তি থামছে না। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিজেপির রাজ্যপালের কাছে নালিশ করেছে। বুধবার হুগলির জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং।

কিন্তু কারোর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বিজেপির সাংসদরা। এরপরই ক্ষোভে ফেটেন পড়েন তাঁরা। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিংরা।

তেলেনিপাড়ার অশান্তির পিছনে তৃণমূলের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। এরপরই চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ও ভদ্রেশ্বর থানার ওসির বদলির দাবিতে সরব হন হুগলির সাংসদ।

অর্জুন সিং বলেন, “জেলাশাসক জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন না। অতিরিক্ত জেলাশাসকের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। জেলাশাসকের বিরুদ্ধে লোকসভায় প্রিভিলেজ আনা হবে। একজন জেলাশাসক এমপির সঙ্গে দেখা করবেন না এটা হতে পারে না।” তাঁর দাবি, “বাড়ি লুঠ হচ্ছে, অশান্তি চলছে। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।”

হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “জেলাশসক ও পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি, ধরেননি। সিপি তেলেনিপাড়ায় ক্যাম্প করে বসে আছেন। আমদের সঙ্গে দেখা করেননি। তবু কেন অশান্তি বন্ধ হচ্ছে না?”

এরপর রাতেই বদলি করা হয় ভদ্রেশ্বর থানার ওসি নন্দন পাণিগ্রাহীকে।ওসির বদলির ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।