কলকাতা: জাতীয় পরিবেশ আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল রবীন্দ্র সরোবরে ছট উৎসব বন্ধ করতে৷ তারপরও দু’বছর ওই উৎসব পালন করা হয়েছিল৷ তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক৷ শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার এ বছর রবীন্দ্র সরোবরে ছট উৎসব বন্ধ করে দিল৷ সরোবর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)৷ যদিও কেএমডিএ শহরের অন্য ১০টি পুকুরে ছট উৎসবের ব্যবস্থা করছে।

রবীন্দ্র সরোবর (পূর্বনাম ঢাকুরিয়া লেক) দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ৷ লোকমুখে এটি “দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস” হিসেবে আখ্যায়িত। ঢাকুরিয়া লেক নামটি এই হ্রদসংলগ্ন অঞ্চলটিরও পরিচায়ক। এই হ্রদের উত্তরে সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, পশ্চিমে রসা রোড, পূর্বে ঢাকুরিয়া এবং দক্ষিণে কলকাতা শহরতলি রেলওয়ের লাইন অবস্থিত।

অভিযোগ,দেশের সমস্ত কৃত্রিম হ্রদের মতো রবীন্দ্র সরোবরও পরিবেশ দূষণের শিকার৷ পর্যটক বৃদ্ধি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে জনবসতির বিস্তারের ফলে বেড়েছে জল দূষণ৷ তার উপর আবার সেখানে পালিত হত ছট উৎসব৷ এবং বিভিন্ন পুজো-পার্বণ৷ দূষণ নিয়ে আন্দোলনে নামে পরিবেশবিদরা৷ শেষ পর্যন্ত জাতীয় পরিবেশ আদালত রবীন্দ্র সরোবরে ছট উৎসবসহ সব ধরনের পুজো-পার্বণ বন্ধের নির্দেশ দেয়৷

পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের ১০টি পুকুরকে চিহ্নিত করেছে কেএমডিএ। নোনাডাঙা ৩ নম্বর ঘাট, যোধপুর পার্ক জলাশয়, রামধন পার্ক, গোবিন্দন কুট্টি, মাদুরতলা ঝিল, নববৃন্দাবন ঝিল, ১০ নম্বর পুকুর, লালকা পুকুর, কাটজু নগর পুকুর ও রুবি হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী জলাশয়৷ ওই সব পুকুরগুলোকে ছট উৎসব পালনের উপযুক্ত করে তোলা হচ্ছে৷ আলো,শৌচালয় ও পোষাক বদলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ তার জন্য শহরজুড়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে৷