ফাইল চিত্র

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ভাগাড় কাণ্ডের তদন্তে ‘হাই পাওয়ার্ড কমিটি’ তৈরি করল রাজ্য৷ মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কমিটির কথা জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মানুষ তো ভয়ে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে৷ আমরা ‘ফুল প্রুফ মেকানিজম’ আনব৷ পুরো বিষয়টি দেখা হচ্ছে৷’’ তিনি জানান, মুখ্য সচিব মলয় দে-র অধীনে থাকবে ওই কমিটি৷ কমিটিতে থাকবেন বিভিন্ন দফতরের প্রধান সচিবরাও৷ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘আপনারা জানেন, বাংলার বাইরেও এই ঘটনার সংযোগ রয়েছে৷ পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে৷’’

এপ্রিলের ২০ তারিখ বজবজ থেকে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ পুলিশ জানতে পারে, ভাগাড় থেকে পশুর দেহ সংগ্রহ করে তারা কলকাতায় পাঠাত৷ এরপরই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ে৷ পচা মাংসের ব্যবসা যে শহরজুড়ে, তা একের পর এক ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতে থাকে৷

রাজ্য সরকারে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট এবং কলকাতা পুরসভার দল শহরের নামী খাবারের দোকানগুলিতে ভাগাড়ের মৃত পশুর মাংস খুঁজে পায়৷ পুলিশ জানতে পারে, ভাগাড়ের মাংসকে বিভিন্ন সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তাজা রাখার ব্যবস্থাও করা হয়৷ থেমে থাকেননি, আইনজীবী ও পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত৷ তিনি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন৷

এত কিছুর পর রাজ্যের নড়েচড়ে বসা ছাড়া আর উপায় ছিল না৷ মাছে-ভাতে বাঙালি সপ্তাহান্তে চিকেন-মাটনের দিকে ভয়ে তাকাতে পারছে না৷ এই ঘটনার আর যাতে না ঘটে, সেই কারণে বিশেষ মেকানিজমের রূপরেখা তৈরি করতে ব্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷

সুভাষবাবু আদালতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথারিটি অফ ইন্ডিয়া বা ফাসাইয়ের ২০১৫-১৬ সালের রিপোর্ট দেখিয়ে দাবি করেন, মাত্র ১২০টা নমুনা রাজ্য থেকে পরীক্ষা করা হয়েছিল৷ কিন্তি মহারাষ্ট্র থেকে ৬৯৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল৷ ভেজাল খাবার পরিবেশন করে ধরা পড়লে রাজ্যে ৩০ হাজার খরচ করলেই মুক্তি৷ কিন্তু মহারাষ্ট্রে কোটি টাকা খরচ করতে হয়৷ পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ রাজ্যের নমুনাতেই ভেজাল পাওয়া গিয়েছিল৷

অবশ্য রাজ্যের তরফে ‘ফুল প্রুফ মেকানিজম’ কীভাবে হবে তা নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা৷ হাওড়ার এক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ‘‘সবাই তো খারাপ ব্যবসা করে না৷ ৩০ বছর ধরে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে ব্যবসা করি৷ যে কোনও পরীক্ষা দিতে আমি তৈরি৷ আত্মবিশ্বাস রয়েছে৷’’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও