সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: রাজ্যে মিড ডে মিলের দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক হারে বেড়েছে৷ এতে চিন্তিত মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর নির্দেশে দুর্নীতি রুখতে কমিউনিটি কিচেন তৈরি করা হচ্ছে৷ সেই জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলাকেই৷ রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই প্রোজেক্ট অগষ্ট মাসের মধ্যে কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই চালু হতে চলেছে৷ এমনই জানা গিয়েছে জেলা প্রশাসন সূত্রে। প্রকল্পের খরচ পড়তে পারে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা।

কমিউনিটি কিচেন তৈরির জন্য অন্য রাজ্য থেকে খাবার তৈরি উন্নতমানের মেশিন আনার ব্যাপারে টেণ্ডার ডাকা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও প্রায়শই মিড ডে মিল নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। কখনও নিম্নমানের চাল ডাল দিয়ে রান্না করা আবার কখনও মিড ডে মিলের সামগ্রী দেদার পাচার করার ঘটনা উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমে৷

সম্প্রতি জেলার গলসীর এক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে রান্না করার ঘটনায় গ্রামবাসীরা গোটা স্কুলেই তালা ঝুলিয়ে দেন৷ ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। অনেক অভিভাবকই তাঁদের ছেলে মেয়েদের মিড ডে মিলের খাবার খাওয়াতে চাইছেন না৷ ফলে পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ টনক নড়েছে সরকারের৷ এই অবস্থায় উন্নত মেশিনের মাধ্যমে গুণ সম্পন্ন মিড ডে মিল তৈরি হলে তা একদিকে যেমন বিজ্ঞানসম্মত হবে অন্যদিকে খাবারের মান নিয়েও কোনও প্রশ্ন থাকবে না বলেই মনে করছেন জেলা প্রশাসনে কর্মকর্তারা।

বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলে মিড ডে মিলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ (চাল বাদে) মাথাপিছু ৪টাকা ৪৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকের জন্য ৬ টাকা ৭১ পয়সা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় মিড ডে মিল পরিষেবা পাচ্ছে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার পড়ুয়া। জানা গেছে, এই পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন বর্তমান জেলাশাসক বিজয় ভারতী। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে জেলার ভাতার কিষাণ মাণ্ডিতে নতুন আকারে প্রকল্প তৈরির কথা চিন্তা করেন৷

জেলাশাসক জানিয়েছেন, খুব দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প রূপায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, অন্য রাজ্য থেকে আনা মেশিনে একসঙ্গে ২ হাজার জনের প্রয়োজনীয় রান্না তৈরি করা যাবে। জেলা প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে জেলায় এই পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্প চালু হচ্ছে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই এলাকায় রয়েছে ১৬টি প্রাথমিক স্কুল এবং ৪টি এসএসকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট প্রায় ২ হাজার ছাত্রছাত্রী এবং গর্ভবতী মহিলার কাছে খাবার পৌঁছানো যাবে। গোটা প্রকল্পই পরিচালনা করবেন স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। যাঁরা এই সমস্ত স্কুলে রান্নার কাজ করতেন তাঁরাই পর্যায়ক্রমে এই মেশিনের মাধ্যমে খাবার তৈরি ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকবেন।

প্রথম ধাপে ইকো রিক্সার মাধ্যমে ভাতার কিষাণ মাণ্ডি থেকে তৈরি হওয়া খাবার টিফিন বাক্সের মাধ্যমে তা স্কুলে স্কুলে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে এই প্রকল্প সফলতা লাভ করলে তা জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত এলাকাতেই চালু হবে। শুধু প্রাথমিক বা এসএসকে নয়, মিড ডে মিল চালু থাকা অন্যান্য বিদ্যালয়গুলিতেও এই প্রকল্প রূপায়িত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।