বেজিং: রবিবার ছুটির দিন। ওয়াটার পার্কে পুলে জলকেলিতে মত্ত মানুষজন। আট থেকে আশি সব বয়সীরাই আমোদ-প্রমোদে সামিল। এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দে ধেয়ে এল সুনামি! জলের তোরে ভেসে গেলেন মানুষজন। শুধু তাই নয়, আহতও হয়ে পড়লেন চল্লিশের বেশি মানুষ। ভাবছেন এ আবার কি আজগুবি গল্প! ওয়াটার পার্কে আবার কিভাবে সুনামি আসতে পারে? কিন্তু এমনটাই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন চিনের মানুষ।

প্রমোদ উদ্যানগুলিতে রাইড বিকল হয়ে দুর্ঘটনার উদাহরণ কম নয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আমোদ করতে এসে ভোগান্তির শিকার হওয়ার এহেন ভুঁড়িভুঁড়ি উদাহরণ রয়েছে। গত রবিবার উত্তর চায়নার এক ওয়াটার পার্কেও ঘটেছে বিপদজ্জনক এই ঘটনা। অনিয়ন্ত্রিত ওয়েব মেশিনে ত্রুটির কারণে পুলের জলেই ধেয়ে এসেছিল সুনামির তরঙ্গ। উত্তর চিনের বিখ্যাত ওয়াটার রিসোর্ট সুইওয়ানে রয়েছে পুল। সেখানে আগতদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রকম প্রমোদের বন্দোবস্ত। তারমধ্যেই একটি ওয়েব মেশিন। যার দৌলতে পুলে নেমে সমুদ্দুরের স্বাদ পেয়ে থাকেন আগতরা। পান বেলাভূমিতে দেহ রেখে ঢেউ এসে শরীরে আছড়ে পড়ার মজা।

এই কাজেই লাগানো হয়ে থাকে ওয়েব মেশিন। পুলে ভেসে থেকে ঢেউয়ের মজা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মেশিনই ঢেউয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ওই বিকল হয়ে যায় এই ওয়েব মেশিন। যার কারণে পুলে ভেসে থাকার সময় প্রবল গতির ঢেউ ধেয়ে আসে পুলে আমদরতদের উপর। যা ধারণা করতে না পারায় প্রবল গতির এই তরঙ্গ সামলাতে পারেননি তারা। ফলে এহেন দুর্ঘটনার মধ্যে পরতে হয় তাদের। প্রবল জলের তোরে আহত হন ৪৪ জন। একজন মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুই পায়ের হাঁটুতে চোট পেয়েছেন তিনি। এই পুরো ঘটনা মোবাইল বন্দী হয়ে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওয়েব মেশিনে তৈরি হওয়া একটি বৃহদাকার ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওয়াটার পার্কে আমোদরতদের। বড়রা চিৎকার শুরু করেছেন বাঁচার চেষ্টায়। বাচ্চারা ভয়ে আর্তনাদ জুড়েছে। স্বাচ্ছন্দ্য বিকেলের চিত্র যেন পরিণত হয়েছে রক্তাক্ত দুঃস্বপ্নে। দশ ফুটের এই ঢেউকেই সুনামি বলছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা মানুষজন। উত্তর-পূর্ব চায়নার জিলিন প্রদেশের ইউলংবেসিনিক এলাকার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ওয়াটার পুলটি। দুর্ঘটনার পর পার্কের আধিকারিকরা জানান, মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।