সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে তরমুজ চাষিরা। এমনটাই জানা যাচ্ছে ফল বাজার সূত্রে। গ্রীষ্মের অন্যতম সেরা ফলের মধ্যেই পড়ে তরমুজ। ফলন এবং বিক্রি নিয়েও বিশেষ সমস্যার মুখে পড়েন না চাষিরা। কিন্তু চলতি বছরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা।

গ্রীস্মে আম লিচুর ভারে নাম ঢাকা পড়ে তরমুজের। তবে গ্রীষ্মের ফলগুলির মধ্যে সবথেকে উপকারি ফল তরমুজ। কারণ এই ফলের ৯৫ শতাংশই জল। গ্রীষ্মে এই জলই মানুষের শরীরে সবথেকে বেশী প্রয়োজন পড়ে। তাই কেনা থেকে বিক্রি চাষি থেকে ব্যবসায়ী কেউ বিশেষ সমস্যার মধ্যে পড়েন না। জলের জন্য উপযোগী ফলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে জলই। এই বছর গ্রীষ্মে নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই সেটাই ক্ষতির কারণ হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এই গ্রীষ্মের শুরু থেকেই গরমের মুখ দেখেনি রাজ্য। পারদ ৩৫ ডিগ্রি ছুঁলেই একের পর এক ঝড় আছড়ে পড়েছে রাজ্যের উপর। কখনও হয়েছে প্রচণ্ড বৃষ্টি। কিন্তু এই বৃষ্টিই তরমুজ চাষিদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলায় তরমুজ ফলন হয় বহরমপুরে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যন্য জেলাগুলির মতো মুর্শিদাবাদের সদরে এবারে নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে। তার ফলই ভুগছেন চাষিরা।

ফল ব্যবসায়ী ইউসুফ বলেন, “গ্রীষ্মে এত বৃষ্টি কোনওবছর হয় না।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এবারে ফোলনটাও বেশ ভালো হয়েছিল। বৃষ্টিতে মাঠে পড়ে থেকেই নষ্ট করে হয়েছে অনেক তরমুজ।”

মহম্মদ সেলিম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “মাটিতেই চাষ হয় তরমুজের। গরমের পাশাপাশি জলও দরকার পড়ে ভালো তরমুজ ফলাতে হলে। কিন্তু সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ থাকে। তার থেকে বেশী হলেই সমস্যা।” হয়েছেও তাই।

সমস্যার জেরে কম দামেই তরমুজ বিক্রি করেছেন চাষিরা। ফল মান্ডিতে ৮ থেকে ১০ টাকার মধ্যেই মিলছে তরমুজ। খুচরো বাজারে তরমুজ মিলছে ২০ টাকায়। জুলাইতে আরও দাম বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়িরা।