ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: পানীয় জল অপচয় বন্ধ করুন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করুন। চলতি পথে এমন জনসচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপনের প্রচার আমরা সচরাচর দেখতে পাই। জল-পরিবেশ এবং গাছ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বুদ্ধিজীবী মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সবার মুখেই জন সচেতনতার বার্তা শোনা যায়। কিন্তু দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠা এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় মানুষ যে এখনও ভাবলেশহীন তা জলপাইগুড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর গলিতে একবার পা রাখলেই বেশ ভালো করে বোঝা যাবে।

রাজ্য সরকার থেকে কেন্দ্রীয় সরকার সবাই যখন জলের অপচয় বন্ধ করতে রোজই নাগরিকদের পরামর্শ দিচ্ছেন, তখন জলপাইগুড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে গেলে দেখা যাবে এক অন্য চিত্র। জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর গলিতে খোদ সরকারি পানীয় জল পরিষেবার জলের পাইপ ফেটে রাস্তায় জল থই থই অবস্থা। স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, টানা পনেরো দিন ধরে এই ভাবেই বিশুদ্ধ পানীয় জল পড়ে যাচ্ছে সমানে। জল জমে রাস্তার পাশে রীতিমতো গাড্ডা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বুধবার সকালে জলের পাইপ ফাটা নিয়ে ‘নাগরিক টিভির’ ক্যামেরার সামনে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ওই এলাকার স্থানীয় গৃহবধূরা। তাঁরা অভিযোগ করে এদিন জানিয়েছেন, জনগণের করের টাকায় সরবরাহ করা বিশুদ্ধ পানীয় জলের পাইপ ফেটে রাস্তায় জল পড়েই চলেছে । জল জমে রাস্তার পাশে রীতিমতো গাড্ডা তৈরি হয়েছে। এদিকে পাইপ দিয়ে সব জল বেরিয়ে যাওয়ায় এলাকার টাইম কলগুলি জলশূন্য। মহিলারা আরও জানান, স্থানীয় কাউন্সিলরকে এই নিয়ে বিষয়টি বহুবার বলার পর একবার মাত্র পাইপ সারাই করা হয়েছে। কিন্তু আবার যেই কি সেই অবস্থা। জল নামক জীবনের এইভাবে অপচয় চলছে তো চলছেই। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ার নারীশক্তিদের একটাই প্রশ্ন এইসব হচ্ছেটা কী?

এই বিষয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিমল পাল চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তিনি জল অপচয়ের বিষয়টি এক কথায় স্বীকার করে নেন। এদিকে জলের অপচয় নিয়ে কাউন্সিলারের অভিযোগের তির পুরসভার দিকে। বারংবার পুরসভাকে বলার পরেও ফাটা পাইপ সারানোর দিকে নজর দেওয়া হয় নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওই কাউন্সিলর। তাঁর রাজনৈতিক রঙ পৃথক হওয়ার কারনেই এই অবজ্ঞা বলে সন্দেহ কাউন্সিলর বিমল বাবুর। তিনি আরও জানান, জলের অপচয় বন্ধ এবং ফাটা পাইপ মেরামতের জন্য এবার এসডিওর দ্বারস্থ হ‌ওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। এদিকে জলের পাইপ সারানোর দায়িত্ব পুরসভা না পিএইচ‌ইর এটা জানার দরকার‌ই নেই নাগরিকদের। নাগরিকরা শুধু জানতে চান জলের অপচয় বন্ধ হবে কবে?