ওয়াশিংটন: মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে জলের উত্স আবিষ্কার করে ফেলেছেন। বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের মাটির নীচে তিনটি হ্রদ পেয়েছেন।

অবশ্য দু’বছর আগেও মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে এক বিরাট নোনা হ্রদের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। এই হ্রদটি বরফের নীচে চাপা পড়ে আছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে মঙ্গল বসবাস করতে হলে এই জল কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷

২০১৮ তে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি-র স্পেসক্র্যাফট মার্স এক্সপ্রেস এমন একটি জায়গা আবিষ্কার করে যেখানে বরফের নীচে লবণাক্ত জলের হ্রদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত, এই হ্রদের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে স্যাটেলাইট প্রায় ২৯ বার ওই এলাকা দিয়ে ঘুরেছে এবং ছবি তুলেছে। এর থেকে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় এমন আরও হ্রদ রয়েছে।

সায়েন্স ম্যাগাজিন নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত হয়েছে, মঙ্গল গ্রহে জল তরল অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৮ সালে যে হ্রদটি মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণে আবিষ্কার হয়, সেটি বরফ দিয়ে আচ্ছাদিত। এটি প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এখন পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে পাওয়া সবচেয়ে বৃহত্তম হ্রদ এটিই।

রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলাইনা পেটিনেল্লি জানিয়েছেন, তাঁরা দু’বছর আগে আবিষ্কৃত হ্রদের চারপাশে আরও তিনটি হ্রদ সন্ধান পেয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলগ্রহে তরল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগে মঙ্গলগ্রহকে একটি জলহীন গ্রহ ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ভুল ধীরে ধীরে ভাঙছে। অবশ্য বিজ্ঞানীরা বহুদিন আগে থেকেই জানিয়েছিলেন, মঙ্গলগ্রহে একসময় প্রচুর পরিমাণে জল প্রবাহিত হত। তিন বিলিয়ন বছর আগে জলবায়ুতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে মঙ্গল গ্রহের সমস্ত রূপ পরিবর্তিত হয়েছিল বলে মত বিজ্ঞানীদের।

এর আগে ২০১২ সালে নাসা কিউরিওসিটি শিলায় তিন বিলিয়ন বছরের পুরনো কার্বনিক অণু খুঁজে পায়, যা দেখে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্ত উপনীত হন যে, এই গ্রহে অবশ্যই জীবনের অস্তিত্ব ছিল।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।