হাওড়াঃ  টানা বৃষ্টির জেরে বেসামাল পরিস্থিতি। জলে ভাসছে হাওড়া শহর। বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রাতভর বৃষ্টিতে জল থইথই পরিস্থিতি হাওড়াতেও। জলে ভাসছে কলকাতা-শহরও। এর জেরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে অলিগলি থেকে রাস্তাঘাট। হাওড়া পুরনিগম এলাকার নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পঞ্চাননতলা, বেলিলিয়াস রোড, ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাস, বেনারস রোড, রামচরণ শেঠ রোড, হাওড়া আমতা রোড, বেলুড় স্টেশন রোড, পদ্মবাবু রোড , পি এন ঘোষ রোড, ,জি টি রোড থেকে শুরু করে সালকিয়া, লিলুয়া, বালি, শিবপুর সর্বত্র জল জমেছে। দেড় দিনের ভারী বর্ষণের জেরে হাওড়া পুরসভার ৪৩ নং ওয়ার্ড জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে।

লাগাতার বৃষ্টির কারণে বন্ধ রয়েছে এই এলাকার বহু দোকানপাট। খুব সমস্যা মুখে রয়েছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরনিগম সূত্রের খবর, পাম্প চালিয়ে জল নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ফের নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। এদিকে, ৪২ নং ওয়ার্ডের রাজীব কলোনির বেশ কিছু ঘরে বৃষ্টিতে জল ঢুকে যায়। এদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাওড়া পুরনিগমের ২২ নং ওয়ার্ডে প্রবল বৃষ্টিতে বাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় তাদের খিচুড়ি দেন প্রাক্তন পৌর প্রতিনিধি দিব্যেন্দু মুখার্জী।

অন্যদিকে, এদিন সকালে অফিস টাইমে হাওড়ার পঞ্চাননতলা রোডে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় একটি বাসের চাকা গর্তে পড়ে যায়। ধর্মতলা-দাশনগর রুটের মিনিবাসটি হাওড়া ময়দানের দিক থেকে আসার সময় বেলিলিয়াস লেনের মুখে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসের সামনের ডানদিকের একটি গর্তে ঢুকে যায়। এর জেরে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে। অন্য সব গাড়িকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিনিবাসটি অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়েই বাসের চাকা রাস্তার গর্তে ঢুকে যায়। পঞ্চাননতলা রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ওই রুটে জল জমার কারণে এদিন টোটো, রিক্সা সহ সব গাড়িই বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, সকাল ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বাঁকড়া পার্কসার্কাস রুটের বাসটি রাস্তায় গর্ত দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন ওই বাসটিকে ওভারটেক করে বেরতে যায় ধর্মতলা দাশনগর রূটের বাসটি। তখনই সেটি গর্তে ঢুকে যায়। এরপর লোকজন ভয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন। বাসচালক মঞ্জুর আলম বলেন, রাস্তার দু’দিকেই গর্ত ছিল। আমি তাই মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আচমকা চাকাটা গর্তে পড়ে গিয়ে গাড়িটা দাঁড়িয়ে যায়। বাসে বেশি যাত্রী তখন ছিল না। সকলেই সিটে বসেছিল। কারও তেমন চোট লাগেনি। অনেকক্ষণ পর পুলিশ আসে ব্যাঁটরা থানা থেকে। পুরনিগম এলাকার বাসিন্দা সমীর সিংহ বলেন, জনপ্রতিনিধিরা আসছেন। দেখে চলে যাচ্ছেন। কোনও কাজ হচ্ছে না। রাস্তা ভাঙাচোরা হয়ে পড়ে রয়েছে। জল জমেছে। দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের ঘরেও জল জমে রয়েছে। এত টাকা দিয়ে ড্রেনেজ করেও লাভ হয়নি।

.হাওড়ার পুর কমিশনার তথা পুর প্রশাসক বিজিন কৃষ্ণ এদিন বলেন, অতিবৃষ্টি ও গঙ্গায় জোয়ার থাকায় বিকেল পর্যন্ত জল অনেক জায়গায় নামেনি। তবে ভারী বৃষ্টি না হলে রাতের দিকে জল নেমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। জল নামাতে কেএমডিএ’র দুটি বড় পাম্পিং স্টেশন ছাড়াও ২৯টি ছোটো পাম্প চালানো হচ্ছে। সাফাই কর্মীরা সারাদিন জল নিকাশির কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। আমরা গোটা এলাকাটি ঘুরে দেখেছি। এদিকে, এদিনের বৃষ্টিতে পূর্ব রেলের হাওড়া বর্ধমান শাখার হাওড়া কারশেডে জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। পূর্ব রেল ৬টি লোকাল ট্রেন বাতিল করে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের কারশেডের সামনের লাইনে জল জমে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যহত হয়। বাতিল করা হয় ৫ জোড়া লোকাল ট্রেন।