বালুরঘাট: জলের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আত্রেয়ী নদী। সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে সমস্যায় পড়েছেন এদেশের মানুষ৷ বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুরের৷ এই নিয়ে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ লোকসভায় সরব হয়েছেন৷ অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বিধানসভাতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বাংলাদেশের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী ও এলাকার সাংসদের পাশাপাশি এবার আত্রেয়ী নিয়ে দ্রুত উদ্যোগী হতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জেলার মানুষও।

প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আত্রেয়ী নদী। কয়েক হাজার মানুষের বাস৷ তাদের জীবন জীবিকা নির্ভর করে আত্রেয়ী নদীর জলের ওপর। সে নদী এখন শুকিয়ে যাচ্ছে জলের অভাবে৷ অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার মোহনপুরা এলাকায় নদীর মাঝ বরাবর বাঁধ দিয়ে জল আটকে দিয়েছে সেদেশের সরকার। কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষ লক্ষ্য করছেন যে, দিন দিন নদীর জলপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। কেন কমে যাচ্ছে তা জানার চেষ্টা করেন পরিবেশপ্রেমীরা৷

খোঁজ নিয়ে মোহনপুরার সেই বাঁধ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা জ্যোতিব্রত চক্রবর্তীর বক্তব্য, এখনও সময় আছে আত্রেয়ীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার৷ আমরা চাই কেন্দ্রীয় সরকার সেই ব্যবস্থা করুক৷ অন্যথায় দক্ষিণ দিনাজপুরের পাশাপাশি পরিবেশের অবস্থা আরও বিপন্ন হবে। বিশিষ্ট গবেষক সমিত ঘোষ জানান, আত্রেয়ী নদীর উল্লেখ দেবী পুরাণেও রয়েছে। সুপ্রাচীন এই নদীই অখন্ড ভারতবর্ষের বাণিজ্যের অন্যতম পথ ছিল।

আত্রেয়ী নিয়ে কেন্দ্র সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় বহুদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ। গত ১ জুলাই বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার লোকসভায় আত্রেয়ী তথা বাংলাদেশের বাধের বিষয়ে সরব হয়ে বিষয়টি তুলে ধরে ছিলেন। তিনি আত্রেয়ীকে মাতা সম্বোধন করে বলেন, বারাণসীর ক্ষেত্রে যেমন গঙ্গা তেমন দক্ষিণ দিনাজপুরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্রেয়ী নদী। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভাতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের এই নদী নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি সরাসরি কেন্দ্রের উদাসীনতাকেই এব্যাপারে দায়ী করেছেন। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগও করেছেন যে বাংলাদেশে আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দেওয়ার জন্যই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অবস্থা বিপন্ন।