স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পর্যটকদের সুবিধার জন্য কয়েক দিন আগে পানীয় জলের নলকূপ তৈরীর কাজ শুরু হয়েছিল বাঁকুড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শুশুনিয়া পাহাড়তলিতে। আর সেই নলকূপ খননের নবনির্মিত গর্ত থেকেই বেরিয়ে আসছে ক্রমাগত জলের ধারা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক পর্যায়ে এলাকায় কৌতুহল সৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই বিতর্কে নাম জড়িয়েছে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের। একদিকে বনদফতরের অভিযোগ, তাদের জমিতে নলকূপ তৈরীর কাজ শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত বা মৌখিক কোন কিছু না জানিয়েই অনুমোদন ছাড়াই ‘রাতের অন্ধকারে’ এই নলকূপ তৈরী করেছে।

অন্য দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে কোন রকম পরিকল্পনা ছাড়াই এই এলাকায় নলকূপ তৈরীর ফলে মাটির নিচে জলের অতিরিক্ত চাপ থাকায় তা পাইপ বেয়ে জল নিজে থেকেই উপরে উঠে আসছে। ফলে যান্ত্রিকভাবে তৈরী এই গর্ত দিয়ে অবিরাম জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে শুশুনিয়া পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঝর্ণার জলের স্রোত অনেকটাই কমে এসেছে।

বনদফতরের স্থানীয় আধিকারিক সুজিত কুমার সিংহের দাবি, যে জায়গায় ঐ নলকূপ খনন করা হয়েছে তা বনদফতরের নিজস্ব জমি। এবিষয়ে তাদের কাছে কেউ কোন ধরণের অনুমতি নেয়নি। বনদফতরকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে রাতের বেলায় এই নলকূপ খনন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পিন্টু রায়, নিমাই চ্যাটার্জ্জীরা বলেন, পঞ্চায়েতের উদ্যোগে শুশুনিয়া পাহাড়তলিতে একটি নলকূপ তৈরীর জন্য খননের কাজ চলাকালীন ৩৩০ ফুটের কিছু পর থেকে নিজে থেকেই জল বেরোতে শুরু করে। এই ঘটনার পর শুশুনিয়া পাহাড়ের ঝর্ণার জলের বেগ অনেকটাই কমে গেছে। এই অবস্থায় কৃত্রিম উপায়ে তৈরী নলকূপটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তারা জানিয়েছেন।

প্রতি বছর পাহাড়, পাহাড়ি ঝর্ণা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে অসংখ্য মানুষ শুশুনিয়া পাহাড়ে বেড়াতে আসেন। এছাড়াও শ্রাবন মাসের সোমবার গুলির আগে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকেনা। লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী এই পাহাড়ি ঝর্ণার জল সংগ্রহ করে নিজের নিজের এলাকায় পায়ে হেঁটে নিয়ে গিয়ে শিবের মাথায় সেই জল ঢালেন।

পাহাড়তলি উৎসবের চেহারা নেয়। আর এই নলকূপের গর্ত দিয়ে অবিরাম জল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে হয়তো একদিন শুশুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ এই পাহাড়ি ঝর্ণা শুকিয়ে যাবে। ফলে এই পাহাড় শ্রীহীন আর মানুষের কাছে আকর্ষণ হারাবে অচিরেই।

এই ঘটনায় এলাকার মানুষের চিন্তিত ভূবিশেষজ্ঞরাও। ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির তরফ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। যাতে এই কৃত্রিম খননটি বন্ধ করে দেওয়া হয় তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানানো হয়েছে।

ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহদেব বাউরীকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পর্যটকদের কথা ভেবেই স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এই নলকূপ তৈরীর কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু এই ধরণের ঘটনা ঘটবে তা কেউ আশা করতে পারেননি। এই অবস্থায় ঐ জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের মাধ্যমে ঐ নলকূপের খনন মুখ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।