বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ‘কমিশনগেট’-এর প্রভাবে আপাতদৃষ্টিতে কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে৷ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে তদন্ত দাবি করা হলেও, এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও বিবৃতিও প্রকাশ্যে আসেনি৷ তবে, দলের অন্দরে এখন জল মেপে চলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন অংশ৷

আরও পড়ুন: অভিষেকের ১০ লাখি সংস্থার আয় কীভাবে আড়াই কোটিতে পৌঁছল?

সোমবার, ৩১ জুলাই সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন এক সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত খবর অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ তবে, এই দুর্নীতির পোশাকি নাম ‘কমিশনগেট’-এর জেরে, এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি৷ এবং, আপাতদৃষ্টিতে ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে কোনও হেলদোলও দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু, প্রকাশ্যে ঘাসফুল শিবিরের কেউ মুখ না খুলতে চাইলেও, ‘কমিশনগেট’-এর প্রভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন অংশ এখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ করে সেই সব সিদ্ধান্তের বিষয়ে চর্চা জারি রেখেছে, যে সব সিদ্ধান্তের জেরে তাঁর ভাইপোর হাতে দলের রাশ তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলে ওই সব অংশ মনে করছে৷ একই সঙ্গে পরিস্থিতির উপরেও ওই সব অংশ নজর রেখে চলেছে৷ এবং, দলনেত্রী এখন কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তার অপেক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের ওই সব অংশ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: মুকুলের ‘কারসাজিতেই’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল অভিষেকের?

তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতির পদে থাকলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবার তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতির পদেও রয়েছেন৷ তবে, শুধুমাত্র একই সঙ্গে এই দুই পদের বিষয়টি নয়৷ কারণ, ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রাখার জন্য যেভাবে দলনেত্রীর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসছে বলে ওয়াকিবহাল মহলেরও বিভিন্ন অংশ মনে করছে, সেই সব বিষয় দলের বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের বড় অংশ মেনে নিতে পারছে না বলেই জানা গিয়েছে৷ তার কারণ হিসাবে ওই সব অংশ এমনই মনে করছে যে, যেভাবে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জমি পোক্ত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, সেখানে পরিবারের একজনের হাতে এ ভাবে দলের রাশ তুলে দেওয়ার বিষয়টি ঘাসফুল শিবিরকে উপকৃত করতে পারে না৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ রাজনৈতিক বিষয়ে এখনও যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি সেভাবে অভিজ্ঞ হতে পারেননি বলে ওই সব অংশ মনে করছে৷ তেমনই, দলের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগের বিষয়টিও তেমন স্বাস্থ্যকর নয় বলেও ওই সব অংশের তরফে জানানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: অভিষেক কাণ্ডে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি নিয়ে রণে বিজেপি

এক সূত্রের কথায়, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের বিভিন্ন অংশ সহজে যোগাযোগ করতে পারে না৷ এমনকি ফোনেও যোগাযোগ করা যায় না৷ সহ সভাপতির পদে থেকে এই ধরনের আচরণ দলেরই ক্ষতি করছে৷’’ একই সঙ্গে এই সূত্র বলেন, ‘‘দলের সহ সভাপতি না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে কোনও সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো যেত৷ তেমনই, তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি পদ দেওয়ার পরে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতির পদে অন্য কাউকে বসানো হলে দলেরই উপকার হত৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ এক সূত্রের কথায়, ‘‘লক্ষ মানুষের সমাগম না হলে সভা করবেন না, এমন হতে পারে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি হওয়ার পরে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মকাণ্ড সেভাবে আর নেই৷’’ কিন্তু, ‘কমিশনগেট’-এর প্রভাব? ওই সূত্রের কথায়, ‘‘কার সাহস আছে যে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলবেন? তবে, যাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরে রয়েছেন, তাঁরা দলনেত্রীর পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন৷ দলের ভালো হবে, তার জন্য কোনও সিদ্ধান্ত দলনেত্রী নেবেন বলেই অপেক্ষা চলছে৷’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।