মুম্বই: দু’দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণময় কেরিয়ারে ইতি টানলেন ওয়াসিম জাফর। ক্রিকেটের সমস্ত ফর্ম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বিদর্ভের তারকা ওপেনিং ব্যাটসম্যান। দেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১৫০টি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলা জাফরের ঝুলিতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে রয়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি রান। ঈর্ষণীয় প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সি গায়েও ৩১টি আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলেছেন ৪২ বছরের এই ব্যাটসম্যান।

৩৪.১১ ব্যাটিং গড়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের ঝুলিতে রয়েছে ১,৯৪৪ রান। ৫টি আন্তর্জাতিক শতরান সহ সেখানে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ১১টি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ ২১২। এহেন বর্ণময় কেরিয়ারকে আলবিদা জানাতে গিয়ে বিদায়বেলায় আবেগঘন ওয়াসিম জাফর। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রথমত সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে আমার ধন্যবাদ, যিনি আমাকে ক্রিকেটের মত একটি সুন্দর খেলার প্রতিভা দিয়েছেন। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার পরিবারকে। আমার মা-বাবা, ভাই এবং স্ত্রীকে। যারা ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সবসময় আমায় উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন।’

পাশাপাশি স্কুলের দিনগুলো থেকে যে সকল কোচের সান্নিধ্য পেয়েছেন জাফর, প্রত্যেককেই বিদায়বেলায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। একইসঙ্গে তাঁর প্রতি আস্থা রাখা নির্বাচকদেরও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি রঞ্জি ট্রফিতে এযাবৎ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্যাটসম্যান। ২০০০ টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া জাফর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২টি ওয়ান-ডে ম্যাচও। তবে জাফর ভারতীয় ক্রিকেটে কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্সের কারণে।

১৯৯৬-৯৭ মরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল জাফরের। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছরের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৬০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহে রেকর্ড ১৯,৪১০ রান। ধৈর্য্যশীল ধ্রপদী ব্যাটিং, চোখধাঁধানো কভার-ড্রাইভে ক্রিকেট অনুরাগীদের হৃদয়ে আজীবন থেকে যাবেন মুম্বইকার ব্যাটসম্যান। শেষ কয়েকটি মরশুমে বিদর্ভের হয়ে খেললেও কেরিয়ারে সিংহভাগ সময় জুড়ে মুম্বইয়ের হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রথম ক্রেইকেট হিসেবে ১৫০টি রঞ্জি ম্যাচ খেলা জাফর।

বিদায়বেলায় জাফর কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর সকল অধিনায়ক ও সতীর্থদেরও। একইসঙ্গে কেরিয়ারের লম্বা এই জার্নিতে যাদের পিলার হিসেবে পাশে পেয়েছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাফর।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।