স্টকহোম: একটি তদন্তমূলক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি উপেক্ষা করে ফের পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় নেমেছে আমেরিকা এবং রাশিয়া। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে বহু আগেই উভয় দেশ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সেইমতো তারা তাদের যাবতীয় পরমাণু অস্ত্রশস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল। কিন্তু হালে সেই চুক্তির তোয়াক্কা না করে দুই মহাশক্তি নাকি আবার তলে তলে পরমাণু প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে। এই খবর জানিয়েছে, স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা এসআইপিআরআই। সংস্থাটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুদ থাকা পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের আরও আধুনিকীকরণের জন্য উভয় দেশই ব্যয়বহুল একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে। একইসঙ্গে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন এবং পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের জন্যও নতুন নতুন কর্মসূচি দুই দেশে পুনহাল হয়েছে বলে এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং চিনও একই পদক্ষেপ অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে এসআইপিআরআই। দুই মহাশক্তি ছাড়া এই তিন দেশও এরই মধ্যে হয় নতুন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নতুন করে এই পরমাণু প্রতিযোগিতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এসআইপিআরআইয়ের গবেষক শ্যানন কিল । এছাড়া, পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির সুদূর ভবিষ্যতেও পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নষ্ট করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের গোড়ার দিকে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির ভাণ্ডারে ১৫,৮৫০টি পরমাণু অস্ত্র ছিল। এর মধ্যে ৪,৩০০টি অস্ত্র এখনও মোতায়েন রয়েছে। অবশ্য এই প্রতিবেদনে এ কথাও বলা হয়েছে যে, ২০১০ সালের চেয়ে বিশ্বে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কমেছে। সেই সময় বিশ্বে ২২,৬০০ পরমাণু অস্ত্র ছিল বলে এতে বলা হয়েছে।
বিশ্বের ৯০ শতাংশ পরমাণু অস্ত্র রয়েছে রাশিয়া এবং আমেরিকার হাতে। দেশ দুটির অস্ত্রভাণ্ডারে যথাক্রমে ৭,৫০০ এবং ৭,২৬০টি পরমাণু বোমা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে ওই সুইডিশ প্রতিবেদনে।