সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : কম দামে পাঁচ দেশের বিদেশি খানা এবার মিলবে এক জায়গাতেই। পুজোর আগে পেটুক ট্যাগওয়ালা বাঙালির জন্য এর চেয়ে ভালো খবর কি বা হতে পারে? তাও আবার প্রাচ্য দেশের খাবার। এমনিতে ওই সব দেশের খাবার খেতে অনেকেই বেশ পছন্দই করে। ওই গিলেই বেড়েছে দেহের মধ্যপ্রদেশ। কিন্তু ফিটের চেয়ে ফ্যাটেতেই মজে বাঙালি মন। এবার সেই বাঙালির পাড়াতেই এসে পড়ছে চাইনিজ, জাপানি, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, সিঙ্গাপুরের রকমারি খাবার। সৌজন্যে ওয়াসাবি রেস্তোরাঁ। জিএসটির চড়া বাজারে আবার দাম কমিয়েছে তারা।

চাইনিজ, জাপানি, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর পাঁচ দেশের খাবারের জন্য পাঁচ আলাদা আলাদা স্পেশাল রেস্তোরাঁর হদিস এই শহরে ভুরি ভুরি রয়েছে। কিন্তু সেই সব দেশের এমন খাবার একস্থানে মেলে না৷ সেই সবই এবার মিলবে শহরের ওয়াসাবি রেস্তোরাঁয়। সারা বছর সুস্বাদু খাবারের লোভ যদি কোনরওরকমে সেরেও ফেলে বাঙালি কিন্তু পুজোর সময় ঘ্যাঁটচচ্চড়িকে দূরে ফেলে আগে চাই সুগন্ধের সুস্বাদু খাবার। পুজোর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। তার আগেই শহরের রেস্তোরাঁ নিয়ে এল পাঁচ দেশের ভিন্ন ভিন্ন পদের বাহার।

কি পাওয়া যাবে এই রেস্তোরাঁয় ? স্যুপ, মেন কোর্স থেকে এপিটাইজার সব ধরনের খাবারই মিলবে রেস্তোরাঁয়। একটি স্পেস্যাল চাইনিজ থালিও পাওয়া যাবে এখানে। পাশাপাশি মিলবে বিখ্যাত জাপানি সুসি, সাসিমিও। সিঙ্গাপুরিয়ান ডেজার্টের তালিকায় রয়েছে হট ব্রাউনি, ক্র্যামেল কাস্টার্ড। বার্মিজ (মায়ানমার) খাবারের মধ্যে পাবেন ল্যাফেট থোক, বার্মিজ কারি উইথ স্টিমড রাইস। আবার চাইনিজের মধ্যে মিলছে চেনা খাবার সুইট কর্ন স্যুপ, চিলি বেবি কর্ন। মিলবে রোস্টেড ল্যাম্বের মত অফবিট চাইনিজ খাবারও।

রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম তারা রাখতে পেরেছেন। রেস্তোরাঁর মালিক আবার পণ্ডিত তন্ময় ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা পাঁচ বছর আগেই আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলাম। নতুন জায়গায় আমাদের নিজেদের খাবার বানানোর কস্ট অনেক কমাতে পেরেছি। তাই জিএসটির বাজারেও দাম কমাতে পেরেছি।” তিনি এও জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় খাবার আর গান সব সময় হাতে হাত মিলিয়ে চলে। তাই পুজোর পরেই আমাদের আরও কয়েকটি শাখাও আমরা খুলব। সেগুলি হবে সল্টলেকের কাছাকাছি।”

বাইপাসের ধারের এই রেস্তোরাঁর হাজির ছিলেন পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, ‘জাপানিজ আমার ফেভরিট। যে দেশেই জাই আমাই গিয়ে আগে জাপানিজ খাবার খুঁজি। আমাদের শহরে জাপানি রেস্তোরাঁ কমই আছে। ঘরের পাশেই তাই আমার লোভটা আরও একটু বেড়ে গেল।”
রকস্টার রুপম ইসলাম আবার বর্মিজ খাবারের অন্ধ ভক্ত। রুপমের কথায়, “আমার স্ত্রী জাপানি খাবার খুব পছন্দ করে। আমি বর্মিজ ফ্যান। ল্যাফেট থোক, বর্মিজ কারি খেলাম। বেশ ভালো।” শহরে বসে এমন সস্তায় পুষ্টিকর খাবার সহজে মেলে না। প্রচুর পরিমান গ্যাঁট গচ্ছা দিলে তাহলে মিলতে পারে। ট্যাঁক বাঁচিয়ে ‘পাঁচমেশালি’ খেতে তাই বাঙালির নতুন ডেসটিনেশন হতেই পারে ওয়াসাবি।