সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: ওয়াকফ সম্পত্তির দেখভালকারী মোতায়াল্লিরা দুর্নীতি বা অনিয়ম করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেবেন রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড। দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের দুবছরের জেল ও ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে রবিবার বর্ধমানে এসে সতর্ক করে গেলেন রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহম্মদ আব্দুল গণি।

রবিবার বর্ধমানের ছোটনীলপুর হজরত মানিক পীর ইসলামিক সমাজ বিকাশ কেন্দ্র ও এমপাওয়ারমেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে ওয়াকফ সম্পত্তিকে যথাযথ ব্যবহার এবং ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের বিষয় সম্পর্কিত একটি আলোচনা চক্রে প্রধান বক্তা হিসাবে হাজির ছিলেন গণি সাহেব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বোর্ড সদস্য আনসার আলি মন্ডল, আইনজীবী আজিজুল হক মন্ডল, মোহম্মদ সালাউদ্দিন, আতেহার আব্বাস রিজভি সহ আয়োজক সংস্থার মহাসচিব গোলাম মইনুদ্দিন প্রমুখরাও। হাজির ছিলেন একালার কাউন্সিলার এবং পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানও। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে গণি সাহেব জানান, ২০১০ সালে কলকাতা বাদে গোটা রাজ্যে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে যে সার্ভে করা হয় তাতে দেখা গিয়েছে ১৬,৪৩,৩৬০ একর সম্পত্তি রয়েছে গোটা রাজ্যে। এর মধ্যে প্রায় আট হাজার একর সম্পত্তি বেআইনিভাবে জবরদখল হয়ে গিয়েছে। এমনকি প্রায় ১০ হাজার একর ওয়াকফের জমিকে খাস করে দেওয়াও হয়েছে। প্রসঙ্গত, তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে সার্ভের কাজ চলছে, চলতি বছরের মধ্যেই তা শেষহবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে ২৯,৯১০ ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে।সেইসঙ্গে তিনি জানান, যদিও এখনও সাকুল্যে মাত্র নয় হাজারের কাছাকাছি সম্পত্তিকে নথীভুক্ত করা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই গণি সাহেবের অভিযোগ, জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপাররা আন্তরিকভাবে তাঁদের সহযোগিতা করলেও নীচু স্তরে বিএলও বা ওসিরা সঠিকভাবে এই কাজে সহযোগিতা করছেন না। প্রায়শই তাঁরা ভুল করে ফেলছেন। তিনি জানিয়েছেন, এতদিন ধরে ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়াও তাঁরা সঠিকভাবে পাননি।

সাম্প্রতিককালে লোক আদালত বসিয়ে আদায়ের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষাধিক টাকা এই বাবাদ আদায়ও হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।এরপরই তিনি বলেন, অনেক সময়ই ওয়াকফ সম্পত্তির দেখভালকারী মোতায়াল্লীদের নিয়ে নানাবিধ অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যেই অনেক মোতায়াল্লীকে তাঁরা সরিয়ে দিয়ে সেখানে ওয়াকফ বোর্ড মনোনীত ম্যানেজমেন্ট কমিটি বসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় অভিযোগ আসছে বোর্ড যাঁদের নিয়োগ করেছে তাঁরা কম ভাড়ায় নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের ভাড়া বসিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এগুলি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, জেলা ও জেলার মধ্যে এরিয়া ভিত্তিক তাঁরা একটি করে কমিটি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরাই ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, পুনুরুদ্ধার প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করবে। বেআইনি দখলদারীকে উচ্ছেদ করার জন্য এবং ওয়াকফ সম্পত্তিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১৩ সালেই কেন্দ্রীয় সরকার জোড়ালো আইন প্রণয়ন করেছেন। প্রসঙ্গত, গণি সাহেব এদিন জানিয়েছেন, অনেক সময়ই তাঁরা অভিযোগ পাচ্ছেন বিভিন্ন ক্লাব বা সংস্থা ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা সংঘবদ্ধ হলে এই প্রবণতাকে রোখা সম্ভব। এদিন গণি সাহেব জানিয়েছেন, ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা যেহেতু গরীব। তাই মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের ছাত্রবৃত্তি পাওয়ার জন্য তাঁদের পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের নাম্বারে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে তাঁদের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.